ঘুষ গ্রহণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর চীনের সাবেক বিচারমন্ত্রী তাং ইয়েজুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। সোমবার পূর্ব চীনের শিয়ামেন ইন্টারমেডিয়েট পিপলস কোর্ট এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত জানান, ৬৪ বছর বয়সী তাং ইয়েজুন ২০০৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মোট ১৩৭ মিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় দুই কোটি মার্কিন ডলার) ঘুষ গ্রহণ করেছেন।
তাং ইয়েজুন ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চীনের বিচারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি লিয়াওনিং প্রদেশের গভর্নর এবং নিংবো শহরের চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) প্রধানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।
আদালতের বিবৃতিতে বলা হয়, নিজের পদমর্যাদার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য অবৈধ সুবিধা আদায় করেন। এর মধ্যে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), ব্যাংক ঋণ অনুমোদন এবং জমি অধিগ্রহণে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আদালত আরও উল্লেখ করে, ঘুষের ‘অত্যন্ত উচ্চ’ পরিমাণ রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে ‘চরম গুরুতর ক্ষতি’ করেছে।
তবে সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে লঘুকরণকারী বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে যে, গ্রেপ্তারের পর তাং ইয়েজুন দোষ স্বীকার করেছেন, অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন, অপরাধ মেনে নিয়েছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করেছেন।
২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং দেশজুড়ে ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করেন। সমালোচকদের মতে, এই অভিযানের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমন করার সুযোগও তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালে চীনের আরেক সাবেক বিচারমন্ত্রী ফু ঝেংহুয়া দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। সে সময় তাকে দুই বছরের স্থগিতাদেশসহ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, যা পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করা হয়।
এদিকে গত মাসে চীনের অন্যতম প্রভাবশালী জেনারেল ঝ্যাং ইউজিয়ার বিরুদ্ধেও দুর্নীতিবিরোধী তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ের যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম।
ফারুক, চট্টলা২৪

