চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সমুদ্রে অবস্থানরত একটি ড্রেজারে নিরাপত্তাকর্মী ছালা উদ্দিনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তেল চুরিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে। ঘটনার পর মরদেহ গোপনে ফেলে রেখে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি মো. ইমাম হোসেন (২৮)–কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭।
র্যাব সূত্র জানায়, নিহত ছালা উদ্দিন সীতাকুণ্ড থানার দক্ষিণ মাহমুদাবাদ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ‘রাইজিং স্টিল শিপ ব্রেকিং লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ড্রেজারে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ড্রেজারে অবস্থানকালে তেল চুরিকে কেন্দ্র করে মো. রিফাত হোসেন ও তার সহযোগীদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে ও ড্রেজারে থাকা তেল ব্যবসায়ী মো. আশরাফ হোসেন কাজলকে মারধর করা হয়। পরে ছালা উদ্দিনকে একটি নৌকায় তুলে গভীর সমুদ্রে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকদিন খোঁজাখুঁজির পর ৩ ফেব্রুয়ারি কোয়ানিয়া খালে কাদায় অর্ধেক পোঁতা অবস্থায় একটি মরদেহ পাওয়া যায়। পরে সেটি ছালা উদ্দিনের মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং ৮ থেকে ২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-৭ জানায়, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ইমাম হোসেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। পরে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জ র্যাবের যৌথ অভিযানে সোনারগাঁও থানাধীন চৌড়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, “নিরাপত্তাকর্মী ছালা উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে শুরু থেকেই ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে আসছি। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

