| প্রতিনিধি, সীতাকুণ্ড
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা সাব-রেজিস্টারের অপসারণের দাবি তুলেছে দলিল লেখক সমিতির নেতাকর্মীরা। মূলত বিভিন্ন অজুহাত তুলে ঘুষ বাণিজ্য করায় তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন তারা।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) সাড়ে ১১টায় সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সাইফুল্লাহ কামাল।
তিনি বলেন, উপজেলা সাব-রেজিস্টার রায়হান হাবীব রেজিস্ট্রি অফিসে যোগদানের পর থেকে জনগণের উপর বিভিন্ন অজুহাত তুলে ঘুষ বাণিজ্যের নীল নকশা তৈরি করেন। তিনি দলিল লেখকগণকে প্রত্যেকটি দলিল রেজিস্ট্রির জন্য ২০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করেন। সে দাম্ভিকতার সহিত বলেন, আমি ছাত্রলীগের ক্যাডার ছিলাম এবং ৮০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে এসেছি। তাছাড়া পাওয়ার মূলে আংশিক জায়গা বিক্রি করলে দলিলের মূল্যের উপর ৭% টেক্স দিতে হবে, না হয় রেজিস্ট্রি হবে না। পরে দেন দরবার করে ২ ভাগের ১ ভাগ দিলে দলিল রেজিস্ট্রি করে দেন।
সর্বশেষ গত ৭ অক্টোবর দলিল লেখক মো. হারুন অর রশিদ তার হেনেস্তার শিকার হন উল্লেখ করে সাইফুল্লাহ কামাল বলেন, ওইদিন হারুন ওয়ারিশ সূত্রে দলিল রেজিস্ট্রি করতে গেলে সাব-রেজিস্টার ঘুষ দাবি করেন। এতে সে ঘুষ দিতে অপারগতা স্বীকার করলে তিনি ও অফিস কর্মকর্তা টিসি মোহরার শহীদুল্লাহ তার লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দেন। তাই আমরা গত ২১ অক্টোবর থেকে সাব-রেজিস্টারের ঘুষ দুর্নীতি ও দলিল লেখকগণকে হেনেস্তার প্রতিবাদে তার অপসারণ চেয়ে কার্যালয়ের সামনে আমাদের মানববন্ধন চলবে।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে কথা হয় সাব-রেজিস্ট্রার মো. রায়হান হাবীবের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার প্রত্যেকটি মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এছাড়া হারুনের দলিলটি তার মুসাবিদাকৃত নয়। একজন আইনজীবির এবং স্থানীয় একজন সাংবাদিক দলিলটির পক্ষ। আইনজীবি এবং দলিলটির পক্ষগণেনের মাধ্যমে নিবন্ধন আইনের আলোকে পুনরায় উপস্থাপন করতে বললে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার খাস কামরায় এসে আমার সাথে দুর্ব্যবহার করেন। তারা এজলাস কক্ষে স্থায়ী কর্মচারীদের সাথেও দুর্ব্যবহার করেন। এক পর্যায়ে দলিল লেখক হারুন বাহির থেকে তার আত্মীয় সাংবাদিক নামধারী কিছু লোককে নিয়ে খাস কামরায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে দরজা ভাঙ্গার চেষ্টা করেন এবং প্রচণ্ড উশৃঙ্খল আচরণ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেন। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। হারুন গত ২০ অক্টোবর কারণ দর্শানোর নোটিশের লিখিত উত্তর দেন এবং আমার কাছে তার উত্তর সন্তুষজনক না হওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রারকে পত্র প্রেরণ করি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি আলহাজ্ব মো. রফিক উদ্দিন আহমেদ, সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ারুল ইসলাম, বেলাল আহমেদ, ফারুক হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন সাহেদ, মোস্তাকিজুল হাকিম, জাহেদ হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, মো. সুজন, নিপুন কুমার সেন প্রমুখ।
নূর/চট্টলা২৪

