ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণহত্যার ‘খলনায়িকা’ আখ্যা দিয়ে তার দলীয় সব অঙ্গসংগঠনসহ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠে দলটির গণসমাবেশে এ দাবি জানান তিনি। মামুনুল বলেন, ‘৭২ এর চেতনা ৭১ এর নামে দীর্ঘ বছর ধরে মার্কেটিং করা হয়েছে।‘
সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে অন্তবর্তীকালীন সরকার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘ছাত্রলীগের চেয়ে অনেক বেশি সন্ত্রাস করেছে যুবলীগ। তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সন্ত্রাস করেছে আওয়ামী লীগ। যে কারণে ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হয়েছে, সেই কারণে যুবলীগ নিষিদ্ধ হতে হবে, হাতুরী লীগ নিষিদ্ধ হতে হবে, হেলমেট লীগ নিষিদ্ধ হতে হবে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করবার কোনো অধিকার নাই।’
প্রতিটি গণহত্যার জন্য শেখ হাসিনা এবং তার সহযোগীদের বিচার করার দাবি জানিয়ে মামুনুল বলেন, ‘অনেক গণহত্যা শেখ হাসিনা করেছে, ২০০৯ সালে, ২০২৩ সালে, ২০২১ সালে ও ২০২৪ সালে। অন্তবর্তী সরকারকে বলতে চাই—এই খুনি হাসিনাকে ধরে এনে আইনের হাতে সোর্পদ করতে হবে। তার বিচার করতে হবে। ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে জনতাকে হত্যার জন্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার জন্য তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।’
মাওলানা মামুনুল হক আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা ৭২ এর সংবিধানের চেতনার উপর নির্ভর করে রাজনীতি করেছেন। শুধু শেখ হাসিনা নয় তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবও ৭১ এর চেতনা, স্বাধিকার আন্দোলনের চেতনাকে দুপায়ে করেছেন, এদেশের মানুষের ভোটাধিকারকে বুটের চাপায় পিষ্ট করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন। ৭৫ থেকে শুরু হলো শেখ হাসিনার প্রতিশোধের রাজনীতি। ৭৫ এর ১৫ আগস্ট থেকে ২৪ এর ৫ আগস্ট পর্যন্ত শেখ হাসিনার ৫০ বছরের রাজনীতিকে পর্যবেক্ষণ করলে খুঁজে পাওয়া যাবে তার রাজনীতির মূলনীতি ছিল দুটি। দুটি দর্শনের উপর ভিত্তি করে চলেছে তার রাজনীতি। প্রথম দর্শন ছিল প্রতিশোধের রাজনীতি। দ্বিতীয় দর্শন ছিল বিভাজনের রাজনীতি। তিনি প্রতিশোধ গ্রহণ করেছিলেন বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে। তিনি প্রতিশোধ গ্রহণ করেছিলেন জাতির কাছ থেকে।’
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে। ইনশাল্লাহ বলে আল্লাহর ইচ্ছার সামনে সবকিছুকে সোপর্দ করেই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কমিটমেন্ট ছিল, অঙ্গীকার ছিল এদেশের মাটিতে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন তৈরি করা হবে না।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার উদ্যেগে এ গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর আল্লামা আলী উসমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক।
নূর/চট্টলা২৪

