বর্ষা মৌসুমে খাগড়াছড়ির বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। টিনশেড ভবনের চাল চুঁইয়ে পানি পড়া এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ জলমগ্ন হয়ে পড়ায় অনেক সময় টানা কয়েকদিন ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়।
খাগড়াছড়ি জেলা শহরের কেন্দ্রস্থলে ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত শব্দমিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে একটি ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেড ভবনে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় সংকীর্ণ বারান্দায় সমাবেশ করতে হয়। বিদ্যালয়ে নেই খেলাধুলার মাঠ কিংবা পর্যাপ্ত টয়লেট সুবিধা। বর্ষাকালে শ্রেণিকক্ষ দিয়ে পানি পড়া নিয়মিত ঘটনা, আর বন্যায় পুরো ক্যাম্পাস কোমরসমান পানিতে ডুবে যায়, ফলে পাঠদান বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। একই চিত্র দেখা যায় আনন্দ নগর ও লক্ষ্মীমুড়া প্রকল্প সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও।
জেলার গোলাবাড়ী ইউনিয়নে ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হরিনাথপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও নিজস্ব কোনো স্থায়ী ভবন নেই। এখানে শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এলজিইডির মাধ্যমে ১ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং ইউ টি মং কনস্ট্রাকশন কাজ পায়। কিন্তু নির্ধারিত ১৮ মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি।
ফলে বিদ্যালয়গুলোতে শ্রেণিকক্ষ সংকট ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা আরও তীব্র হয়েছে। বৃষ্টি হলেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, যার কারণে পাঠদানে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। দ্রুত ভবন নির্মাণ শেষ করে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানিয়েছেন, একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো সমাধান মেলেনি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৫৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ৫০টি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং কিছু বিদ্যালয়ে নির্মাণকাজ চললেও দুর্গম এলাকা, ঠিকাদারের অনুপস্থিতি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ ধীরগতিতে চলছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

