চট্টগ্রামের বৃহত্তম উপজেলা ফটিকছড়িকে বিভক্ত করে নতুন ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন উপজেলার সদর দপ্তর মধ্যবর্তী কোনো স্থানে স্থাপনের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন উত্তর ফটিকছড়ির বাসিন্দারা।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেল চারটার দিকে উপজেলার নারায়ণহাটে এ কর্মসূচি পালিত হয়। গহীরা-হেঁয়াকো আঞ্চলিক মহাসড়কের নারায়ণহাট যাত্রী সাউনির সামনে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধে মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।
বিক্ষোভে বক্তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় জনগণের মতামত ও গণশুনানির প্রতিবেদন উপেক্ষা করে নতুন উপজেলার সদর দপ্তর ভুজপুরে স্থাপনের চেষ্টা চলছে। তারা ভৌগোলিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী কোনো স্থানে সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি জানান। দাবি না মানা হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি কামাল উদ্দিন শিকদার, ভুজপুর থানা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম, যুবদল নেতা আফসার ও শামসুল আলম, ভুজপুর থানা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবু তাহের এবং নারায়ণহাট ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ ফরিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আন্দোলনের এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ আরও জোরদার করেন, ফলে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে এবং সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোঃ ইব্রাহিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করেন এবং অবরোধ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। পরে বিক্ষোভকারীরা আশ্বাসে সাড়া দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রসঙ্গত, বুধবার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় ফটিকছড়ি উত্তর নামে নতুন উপজেলা গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে উত্তর ফটিকছড়ির তিনটি ইউনিয়নে পৃথক পৃথক গণশুনানির মাধ্যমে নতুন উপজেলার সদর দপ্তর স্থাপনের স্থান নির্ধারণ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন তৎকালীন ইউএনও সাব্বির রহমান সানি। ওই প্রতিবেদনে স্থানীয় জনগণের ভৌগোলিক সুবিধা ও সেবাপ্রাপ্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জনমতের ভিত্তিতে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের এই মতামত উপেক্ষা করা হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ফজলুল, চট্টলা২৪

