জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক নাগরিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনটি নির্মাণের নয় বছর পরও চালু হয়নি। একদিনের জন্যও সেখানে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় ভবনটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে ভবনটি মাদকসেবী ও বখাটেদের আড্ডায় পরিণত হয়। দিনের বেলায় সেখানে অবাধে বিচরণ করে গবাদিপশু।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়নের জনবহুল কেন্দ্র থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নির্জন স্থানে নির্মিত ভবনটির প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। চারপাশ আগাছায় ভরে গেছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় দরজা-জানালার বিভিন্ন অংশ চুরি হয়েছে। ছাদের টালি খসে পড়ছে এবং দেয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল। ফলে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি স্থাপনাটি ধীরে ধীরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তৎকালীন চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল বারী টুটুল ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় এলাকা বাদ দিয়ে নিজের গ্রামের পাশে ভবনটির স্থান নির্ধারণ করেন। তাদের দাবি, স্থানীয়দের কাছ থেকে চাঁদা তুলে জমি কেনা হয় এবং প্রভাব খাটিয়ে প্রকল্পের অনুমোদন নেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে আব্দুল বারী টুটুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে বসুন্ধরা এন্টারপ্রাইজ ৯৭ লাখ ২৭ হাজার ১৩৮ টাকা ব্যয়ে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ করে।
তবে নির্মাণ শেষে ভবনটি বুঝে নিতে অস্বীকৃতি জানান তৎকালীন চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মিলন। তার অভিযোগ, ভবন নির্মাণে বিভিন্ন ত্রুটি ছিল এবং এর অবস্থানও নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ। পরবর্তীতে দায়িত্বে আসা চেয়ারম্যানরাও একই কারণে ভবনটি চালু করেননি।
সাবেক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মিলন বলেন, নিজের সুবিধার জন্য সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল বারী টুটুল নিজ এলাকার পাশে ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন। ভবন নির্মাণেও বিভিন্ন ত্রুটি ছিল। নির্জন ও সন্ত্রাসপ্রবণ এলাকায় জনগণের নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর ভবনটি বুঝে নেননি। তার মতে, পুরোনো ভবন সংস্কার করেই ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চালানো সম্ভব ছিল।
এদিকে নতুন ভবনটি অচল পড়ে থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদের সব কার্যক্রম এখনো পুরোনো জরাজীর্ণ ভবন থেকেই পরিচালিত হচ্ছে। যে ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ দেখিয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল, সেখানেই প্রতিদিন নাগরিক সেবা নিতে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের মতে, পুরোনো ভবনটি ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় সেখানে যাতায়াতও সহজ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি কাজে ব্যবহার না হওয়ায় নতুন ভবনটি রাতে মাদকসেবীদের আড্ডা ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের স্থান হয়ে উঠেছে। দিনের বেলায় ভবনের ভেতর ও আশপাশে গরু-ছাগল ঘুরে বেড়ায়।
এ বিষয়ে এলজিইডির মিরপুরের সদ্য সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী জহীর মেহেদী হাসান বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ওই এলাকায় নিরাপত্তাজনিত সমস্যা রয়েছে, এটি সত্য। কেন ভবনটি এত বছর ব্যবহার করা হয়নি এবং নির্মাণের সময় এসব বিষয় কেন বিবেচনায় নেওয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘ নয় বছর ধরে অচল পড়ে থাকা ভবনটি দ্রুত চালু করা অথবা জনস্বার্থে অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধের পাশাপাশি ভবনটি অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হয়ে ওঠাও ঠেকানো সম্ভব হবে।
ফারুক, চট্টলা২৪

