বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ থেকে ‘যুবদল নেতা’ পরিচয় দিয়ে দাপট, চাঁদা না দিলেই গুলি

বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে এক ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দিলে দেওয়া হয় প্রাণনাশের হুমকি। চাঁদা না পেয়ে চার দিনের মাথায় ওই ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে গুলি চালানোর অভিযোগে রাজধানীর মতিঝিল এলাকার আলোচিত সন্ত্রাসী তানিম রেজা ওরফে বাপ্পীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, মতিঝিল, আরামবাগ ও কমলাপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধজগতে সক্রিয় তানিম রেজা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় বদলালেও অপরাধের ধরন বদলায়নি। দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, পরিবহন, ফুটপাত, ময়লা, ইন্টারনেট ও কেব্‌ল ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, মতিঝিল, মগবাজার, মালিবাগ, কমলাপুরসহ আশপাশের এলাকায় গুলি, চাঁদাবাজি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হয়ে কাজ করার বিভিন্ন ঘটনায় তানিমের নাম এসেছে। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া গেছে।

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, গত ১৫ মে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে দক্ষিণ কমলাপুরের কোরবানির পশুর হাটের ইজারাদার ইসমাইল হোসেনের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় ১৯ মে তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘এআই কার্গো সার্ভিস’ কার্যালয়ে একদল সন্ত্রাসী গুলি চালায়। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা হলে তদন্তে তানিম রেজা ও তাঁর সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।

পুলিশের ভাষ্য, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য তানিম সাত থেকে নয়জনের একটি অস্ত্রধারী ‘শুটার বাহিনী’ গড়ে তুলেছিলেন। ব্যবসায়ী বা প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে প্রয়োজনে এই বাহিনী দিয়ে গুলি চালানো হতো। তদন্তে বাহিনীর সদস্যদের কাছে অন্তত সাতটি ভারতীয় আগ্নেয়াস্ত্র থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

তানিমকে গ্রেপ্তারের পর পূর্ব কমলাপুর হাউজিংয়ের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, একটি ইলেকট্রিক শক গান ও একটি কুড়াল উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

ডিএমপি জানায়, গত ১৭ জুলাই রাজধানীর পূর্বাণী হোটেল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তানিম রেজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর সহযোগী রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজনসহ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন মোহাম্মদ জুয়েল, শাকিল ও মানিক কাজী।

পুলিশের দাবি, তানিমের হয়ে মাঠপর্যায়ে চাঁদা আদায় ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিতেন রাকিবুল। ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতেন লিখন ও জাহিদ হাসান। আর আদর ও জিতু নামের দুই সহযোগী শুটার হিসেবে কাজ করতেন। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদের সহযোগী হিসেবে তানিম রেজা অপরাধজগতে প্রবেশ করেন। পরবর্তী সময়ে দরপত্র নিয়ন্ত্রণে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি যুবলীগের প্রভাবশালী নেতাদের হয়ে কাজ করতেন বলে পুলিশের দাবি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতার ভাইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে নিজেকে যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন তানিম—এমন তথ্যও পেয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা। এরপর মতিঝিল, আরামবাগ ও কমলাপুর এলাকায় নতুন করে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেন তিনি।

ডিএমপির কর্মকর্তারা জানান, তানিম রেজার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে সাতটি মামলা রয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় এসব মামলা হয়।

এ ছাড়া ২০০৩ সালে মালিবাগের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযানের সময় গোয়েন্দা পুলিশের দুই কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইখতিয়ার ও জিসানের পাশাপাশি তানিম রেজার নামও এসেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেনের করা মামলায় তানিম রেজা ও রাকিবুলকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা করা হয়েছে।

ফারুক, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...