বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গু, বছরের প্রথম ছয় মাসের চেয়ে বেশি আক্রান্ত গত তিন সপ্তাহে

চট্টগ্রাম জেলায় চলতি বছরে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬০৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩০৫ জনই আক্রান্ত হয়েছেন চলতি জুলাই মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে। গত জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত ছয় মাসে আক্রান্ত হয়েছেন বাকি ২৯৮ জন। অর্থাৎ চলতি জুলাই মাসের ২১ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এর আগের ছয় মাসের তুলনায় বেশি।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবছরই জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। বছরের মোট আক্রান্তের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ রোগী এই পাঁচ মাসেই হাসপাতালে ভর্তি হন। ২০২৫ সালে এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৪ হাজার ৬৭ জন। ওই বছর মোট আক্রান্ত ছিলেন ৪ হাজার ৮৪৬ জন। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালেও প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে।

গতকাল সকাল ১০টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬ জন। তাঁদের মধ্যে নগরের সাতজন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার ছয়জন এবং অন্য জেলার তিনজন। গতকাল জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৯২ জন। চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের একজন সীতাকুণ্ডের, আরেকজন নগরের পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা।

চিকিৎসকেরা বলছেন, গত জুনে স্বাস্থ্য বিভাগের জরিপে চট্টগ্রামের প্রতি ১০০টি বাড়ির মধ্যে ২৭টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এ মাসে ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে থাকায় মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব হাসপাতালেও পড়তে শুরু করেছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, গত কয়েক বছরের একই সময়ের তুলনায় এখনো ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সীতাকুণ্ডের বাসিন্দা তিনজন। অন্যদিকে চন্দনাইশ, রাউজান ও কর্ণফুলী উপজেলার একজন করে বাসিন্দা রয়েছেন। চলতি বছর আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৫৯ জন সীতাকুণ্ডের, এটি উপজেলাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। কর্ণফুলী উপজেলায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ; ৩১ জন।

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৯৫ ভাগ রোগীই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বা নিয়েছেন। গত সোমবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে (১৬ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ড) কথা হয় কর্ণফুলী উপজেলার বাসিন্দা শাহ আলমের সঙ্গে (৪০)। তিন দিন জ্বরে আক্রান্ত থাকার পর এদিন সকালে হাসপাতালে ভর্তি হন পেশায় কাঠমিস্ত্রি শাহ আলম।

সম্প্রতি এক জরিপে নগরের আটটি ওয়ার্ডকে এডিস মশার ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ এলাকা বা রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই ওয়ার্ডগুলো হলো উত্তর কাট্টলী, পাঁচলাইশ, জালালাবাদ, পশ্চিম বাকলিয়া, দক্ষিণ বাকলিয়া, দক্ষিণ হালিশহর, পাথরঘাটা ও আন্দরকিল্লা।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি হটস্পটগুলোতে মশার ওষুধ ছিটানোর জন্য ৬০ জনের একটি প্রশিক্ষিত টিম তৈরি করা হয়েছে। এলাকাভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন সকাল-বিকেল লার্ভিসাইড ওষুধ ছিটানো হচ্ছে, ফগিংও চলছে।

সোহাইল, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

চট্টগ্রামে বিয়ে শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নারীসহ নিহত ২

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার...

ডেঙ্গুতে অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু, মৃত প্রসব হলো প্রথম সন্তান

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর...