Sunday, 8 November, 2026

আন্দোলন ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে অবস্থান ও লাইভ লোকেশন শেয়ার করতে বলছে মুম্বাই পুলিশ

ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ–সংশ্লিষ্ট মামলায় আগে থেকে দায়ের করা এফআইআরের আসামি হয়েছেন—এমন ব্যক্তিদের আবার রাজপথে নামা ঠেকাতে তিনটি কৌশল ব্যবহার করছে মুম্বাই পুলিশ। কৌশলগুলো হলো—শিক্ষার্থীদের বাড়িতে অবস্থান করতে ফোন করা, বাড়িতে পুলিশ পাঠানো এবং লাইভ লোকেশন শেয়ার করতে বলা। একাধিক বিক্ষোভকারী ও পুলিশ কর্মকর্তার বর্ণনায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

একজন বিক্ষোভকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছেন। সেখানে মুম্বাইয়ের ভারসোভা থানার জ্যেষ্ঠ পরিদর্শক দীপশিখা ভারে এই বিক্ষোভকারীকে বাড়িতে থাকতে ও সেটির প্রমাণ হিসেবে ‘লাইভ লোকেশন চালু রাখতে’ বলেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দীপশিখা ভারে মন্তব্য করতে রাজি হননি। থানার আরেক কর্মকর্তা বলেন, ওই বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর হয়েছে। তবে তাঁকে আটক করা হয়নি।

অন্য কয়েকজন বিক্ষোভকারী বলেন, পুলিশ সরাসরি তাঁদের বাড়িতে গিয়েছিল। একজন বলেন, ‘আমার বাড়িতে পুলিশ যায়নি। কিন্তু অনেক বিক্ষোভকারী ছিলেন তরুণ, যাঁরা পরিবারকে বিষয়টি জানাননি। পুলিশ তাঁদের বাড়িতে গিয়ে একদিকে যেমন পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে তাঁদের বিক্ষোভে যোগ দেওয়া থেকেও নিরুৎসাহিত করেছে।

২০ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী বলেন, তিনি মুম্বাইয়ের দাদার এলাকার শিবাজি পার্ক থানা থেকে ফোন পান। তাঁকে বলা হয়, তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ তাঁর বাড়িতে যাবে, তাই তিনি যেন বাড়িতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘এটা যে আমাদের বিক্ষোভে যোগ দেওয়া ঠেকানোর একটি কৌশল, তা স্পষ্ট।’

একাধিক তরুণ বিক্ষোভকারী বলেন, ফোন ও সতর্কবার্তার কারণে তাঁরা বুধবারের (২২ জুলাই) বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেননি। শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর জোট মুম্বাই এগেইনস্ট সাপ্রেশন অব স্টুডেন্টসের (এমএএসএস) এক সদস্য বলেন, গত সোম ও মঙ্গলবারের বিক্ষোভের পর তাঁদের অধিকাংশের কাছে নোটিশ পৌঁছেছে।

ওই সদস্য বলেন, ‘বুধবার সকালে কেউ কেউ ফোন পান। তাঁদের বলা হয়, একটি এফআইআরে তাঁদের নাম রয়েছে। তাই আর কোনো বিক্ষোভে তাঁরা যেন যোগ না দেন। আবার একই সতর্কবার্তা দিতে পুলিশ কর্মকর্তারা অন্যদের বাড়িতেও গিয়েছিলেন।’

দাদার এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া প্রকৌশল বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, সোমবারের বিক্ষোভের পর নোটিশ পাওয়া তাঁর এক বন্ধু বুধবার পুলিশের ফোন পাওয়ার পর আর বিক্ষোভে যাননি।

ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আজকের বিক্ষোভটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ, আগামীকাল থেকে আর কোনো সমাবেশ হবে না। আমরা একসঙ্গে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু পুলিশের ফোন পাওয়ার পর আমার বন্ধু আর আসতে পারেনি। তাঁকে বলা হয়েছিল, যেহেতু তিনি ইতিমধ্যে নোটিশ পেয়েছেন, তাই তাঁকে আরেকটি বিক্ষোভে দেখা গেলে তাঁর জন্য সমস্যা হতে পারে।

সোহাইল, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

যৌথ প্রশিক্ষণ মহড়া ‘কারাত-২০২৬’ উপলক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আগমন

যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর জাহাজ USS WARRIOR আজ রবিবার (০১-১১-২০২৬) চট্টগ্রাম...

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...