চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে মোঃ নাঈম (১৫) নামের এক কিশোরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার জের ধরে প্রধান অভিযুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম ইরান (৪৫)-কে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। এ সময় তার বসতবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া ছাড়াও অন্তত ১০-১২টি আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত শনিবার রাতে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটেরখীল গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।
নিহত ইরান দক্ষিণ ভাটেরখীল এলাকার নুরুল হকের ছেলে এবং এলাকায় চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, নিহত কিশোর নাঈম একই এলাকার অত্যন্ত দরিদ্র ও ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি ইয়াবা ব্যবসায়ী ইরানের কিছু ইয়াবা হারিয়ে যায়। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং নিজেকে বাঁচাতে ইরানের এক ব্যবসায়িক পার্টনার দাবি করে যে, হারিয়ে যাওয়া ইয়াবাগুলো কিশোর নাঈম ও এমরান (২০) নামের এক যুবকের কাছে রয়েছে।
এর জের ধরে গত ২০ জুলাই রাতে ইরান তার দলবল নিয়ে নাঈম ও এমরানকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে রাস্তার পাশে বেঁধে তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়; একপর্যায়ে নাঈমের শরীরের চামড়া ও নখ উপড়ে ফেলা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় দুষ্কৃতকারীরা নাঈমকে তার বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নাঈম মারা যায়।
কিশোর নাঈমের নির্মম মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় প্রচণ্ড ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। গত শনিবার বিকেল ৫টায় নাঈমের জানাজার সময় এলাকাবাসী ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গ্রামবাসীকে ভয় দেখাতে ইরান কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। এতে গ্রামবাসী আরও ক্ষিপ্ত হয়ে মাইকে ঘোষণা দিলে আশপাশের চারটি গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে তাকে ঘেরাও করে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইরানের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ জনতা ইরানের ১০-১২টি সম্ভাব্য মাদক আস্তানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় এবং তার বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ আলমগীর জানান:
কিশোর নাঈম হত্যার ঘটনায় শনিবার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। জানাজা শেষে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত ইরানকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে এবং তার বসতবাড়ি ও আস্তানা ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেয়। নাঈম হত্যা মামলায় ইতোমধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে।
সোহাইল, চট্টলা২৪

