দেশের বাজারে বহুল বিক্রিত ও ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’-এর উপস্থিতি পাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। একই সাথে বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের দিয়ে তদন্তের আরজি জানানো হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আইনজীবী মো: আবদুল্লাহ আল মামুন রিটটি দায়ের করেন। বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে শিগগিরই এ রিট আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে বলে নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী।
গবেষণার চমকপ্রদ ও উদ্বেগজনক তথ্য
পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও)-র সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেশের পেস্ট বাজারে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ভয়াবহ বিস্তারের বিষয়টি উঠে আসে।
-
পরীক্ষিত নমুনা: ইএসডিও দেশের বাজারে নিয়মিত বিক্রি হওয়া ১৯টি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের মোট ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালায়।
-
ভীতিজনক ফলাফল: গবেষণায় ৩৪টির মধ্যে ২৬টি নমুনায়—অর্থাৎ প্রায় ৭৬.৫ শতাংশ টুথপেস্টে—ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়।
-
ব্যবহারিক ঝুঁকি: প্রতিনিয়ত টুথপেস্ট ব্যবহারের মাধ্যমে অজান্তেই এসব প্লাস্টিক কণা মানুষের পৌষ্টিকতন্ত্রে প্রবেশ করছে এবং মুখ গহ্বরে থেকে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিদদের গভীর উদ্বেগ
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত পেস্ট ব্যবহারের মাধ্যমে লালার সাথে এই সূক্ষ্ম প্লাস্টিক কণা পেটে চলে গেলে তা পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতিসহ রক্তে মিশে নানাবিধ জটিল রোগব্যাধি সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, প্রতিদিন ঘরবাড়ি থেকে ড্রেন ও স্যুয়ারেজ লাইনের মাধ্যমে এসব উপাদান সরাসরি নদী-নালা ও জলাশয়ে গিয়ে জলজ বাস্তুসংস্থান পুরোপুরি ধ্বংস করছে।
রিটে যেসব দাবি তোলা হয়েছে
রিট আবেদনে জনস্বার্থ বিবেচনায় বেশ কিছু জরুরি নির্দেশনার আর্জি জানানো হয়েছে:
-
জরুরি তদন্ত কমিটি: বিশেষজ্ঞ পরিবেশবিদ, চিকিৎসক ও প্রযুক্তিবিদদের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন।
-
মান নিয়ন্ত্রণ ও বিএসটিআই-এর ব্যাখ্যা: বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) কর্তৃক বাজারজাত করা এসব পেস্টের মান পরীক্ষা এবং ছাড়পত্র কীভাবে পেল তার ব্যাখ্যা।
-
পণ্য বাজেয়াপ্তকরণ: যেসব ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রমাণিত হবে, সেগুলোর বাজারজাতকরণ সাময়িক স্থগিত ও বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশনা।
আদালতের শুনানির পর বিচারপতিদের বেঞ্চ থেকে বিষয়টি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতি চূড়ান্ত নির্দেশনা ও রুল জারি করা হতে পারে বলে আশা করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।
সোহাইল, চট্টলা২৪

