চট্টগ্রামে ‘শুটার’ হিসেবে পরিচিত মো. ইলিয়াস ওরফে ‘ধামা ইলিয়াস’কে ঢাকার একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আলোচিত রাউজানের যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ইলিয়াসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাখাওয়াত হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইলিয়াসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করেন।
চট্টগ্রাম জেলা আদালতের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইলিয়াসকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মো. ইলিয়াস সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। গত ১৩ জুন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যতম আসামি তিনি। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজেও অস্ত্র হাতে ইলিয়াসকে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইলিয়াসের বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যাসহ মোট ১৮টি মামলা রয়েছে।
গত ১৩ জুন বেলা দেড়টার দিকে চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় মাসুদুল হক চৌধুরীকে। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তাঁর বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মাসুদুল।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, কর্ণফুলী নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
ঘটনার দুই দিন পর, ১৫ জুন নিহতের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী রাউজান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী মোহাম্মদ রায়হান, মো. ইলিয়াস, মো. মোবারক, দিদারুল আলম, মো. ইউসুফসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হত্যার সময় ইলিয়াস ও দিদারুল প্রথমে মাসুদুলকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। পরে ইউসুফ, জাহেদ ও আবছার এগিয়ে গিয়ে আরও কয়েক দফা গুলি করেন। ঘটনাস্থলটি রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে মাত্র কয়েক শ গজ দূরে হলেও হামলাকারীরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ানোর সময় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে সড়কে পড়ে যান মাসুদুল। এরপর অস্ত্রধারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি ছোড়ে। প্রথম দফায় গুলি চালিয়ে সরে যাওয়ার পরও প্রায় ৪০ থেকে ৫০ সেকেন্ড পর ফিরে এসে আবার গুলি করে তারা। পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে হামলাকারীরা। ব্যস্ত বাজারে দিনদুপুরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটলেও আতঙ্কে কেউ এগিয়ে আসেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রধান আসামিদের একজন মোহাম্মদ রায়হান চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তাঁর বিরুদ্ধে নগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্রসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে। তদন্তে রায়হান বাহিনীর সদস্যদের এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে ২৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৮টি হত্যার পেছনে রাজনৈতিক বিরোধের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
ফারুক, চট্টলা২৪

