Sunday, 8 November, 2026

অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে যশোরের ধুমধুমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চেক পোস্ট বসিয়ে ধুমধুমপুর থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যশোর ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ যৌথভাবে এ অপারেশনে ছিল। পরে তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

ডেবিট ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। তার ছিল সাধারণ জীবনযাপন। কিন্তু শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের গ্রুপে যোগ দেওয়ার পর চট্টগ্রামে একের পর এক খুনের ঘটনায় আসে তার নাম। পিস্তল হাতে তার একাধিক ছবি সামাজিকমাধ্যমে ভাইরালও হয়। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন সাজ্জাদের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’। এক সময় বিদেশে থেকে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের ফোন করে চাঁদাবাজি করেন। তার কথা মতো চাঁদা না দিলে ওই ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে চলে গুলি-হামলার ঘটনা।

১৩ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার অ্যাকসেস রোডে ডিডিএন নামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পরে র‌্যাব-পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ ডিডিএনের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। দেশি অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করে। এ সময় তারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখায়।

সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন এই চাঁদা দাবি করেন বলে মামলায় বলা হয়। পর ফেসবুকে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মোবাইল ফোনের এক প্রান্ত থেকে ইমন পরিচয় দিয়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তারা ছুরি ও কিরিচ নিয়ে হামলা করেন না। তাদের হামলার ধরন কেমন, তা পুরো চট্টগ্রামবাসী জানে।

 

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীর কাছে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনার দুদিন পর, গত সোমবার দুপুরে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এক্সেস রোডের মরিয়ম হাইটস ভবনে অবস্থিত ডিডিএনের কার্যালয়ে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল হামলা চালায়।

হামলাকারীরা অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র ও কাচের দরজাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় দুর্বৃত্তরা অফিসের ড্রয়ারে থাকা ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগটি নিয়ে যায়। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে ওই দিনই দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত বুধবার এক ব্রিফিংয়ে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সল আহম্মেদ বলেন, আমরা ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। এ জন্য আমাদের গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত টিম বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। ডেভিড ইমনসহ এই চক্রের বাকিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আমাদের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।

সাব্বির, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

যৌথ প্রশিক্ষণ মহড়া ‘কারাত-২০২৬’ উপলক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আগমন

যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর জাহাজ USS WARRIOR আজ রবিবার (০১-১১-২০২৬) চট্টগ্রাম...

বসুন্ধরায় ফ্ল্যাটে হামলা চালিয়ে লুটপাট, যুবলীগের শহিদুল পুলিশের জালে

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এল ব্লকের ৩৪ নং সড়কের...

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...