বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চট্টগ্রামে গ্যাসের হাহাকার, স্বাভাবিক হতে লাগবে আরও দুই সপ্তাহ

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটের অবসান কবে হবে, তা নিয়ে এখনো মিলছে না আশার খবর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী ১ আগস্টের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরতে অপেক্ষা করতে হতে পারে ১১ আগস্ট পর্যন্ত।

মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালের একটিতে অগ্নিকাণ্ড ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে এলএনজিনির্ভর চট্টগ্রামে।

বন্দরনগরীতে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ২২৫ থেকে ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ কম গ্যাস পাচ্ছে চট্টগ্রাম। ফলে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা, সিএনজি স্টেশন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক গ্রাহক—সবখানেই সংকট তীব্র হয়েছে।

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রান্নার চুলায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। সিএনজি স্টেশনগুলোতে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করছেন চালকরা। সংকটকে পুঁজি করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন কমে যাওয়া এবং এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে। ফলে দেশে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রামের সংকট তুলনামূলক বেশি হওয়ার কারণ, এই অঞ্চলে স্থানীয় গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস সরবরাহ নেই। পুরোপুরি আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভর করতে হয় বন্দরনগরীকে।

জানা গেছে, মহেশখালীর দুটি এফএসআরইউ টার্মিনালের একটি পরিচালনা করছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি এবং অপরটি সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি। গত সপ্তাহে এক্সিলারেট পরিচালিত টার্মিনালের একটি বয়লারে অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটি চালু করতে দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টার্মিনালে থাকা দুটি বয়লারের একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেটি মেরামত করে চালু করা গেলে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পুনরুদ্ধার সম্ভব হতে পারে। বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আনা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, ১ আগস্টের মধ্যে আংশিক সরবরাহ ফিরতে পারে। তবে পুরো সক্ষমতায় ফিরতে ১১ আগস্ট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে। রাষ্ট্রায়ত্ত চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। বর্তমানে শুধু কাফকোতে সার উৎপাদন চালু রয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সংকট তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামের শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রে সীমিত আকারে উৎপাদন চলছে। সেখানে দৈনিক প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামে লোডশেডিং বেড়েছে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ ও সার খাতে গ্যাস সরবরাহের পর অবশিষ্ট প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দিয়ে শিল্প, বাণিজ্যিক, আবাসিক ও সিএনজি খাতের চাহিদা পূরণের চেষ্টা চলছে। কিন্তু এত কম সরবরাহে পুরো নেটওয়ার্কে স্বাভাবিক চাপ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে চট্টগ্রামের রপ্তানিমুখী শিল্প, উৎপাদন ব্যবস্থা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি পরিবহন খাতে ব্যয় বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ইতোমধ্যে গ্যাসের সংকটের কারণে সিএনজি চালিত যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

সোহাইল, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

চট্টগ্রামে বিয়ে শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নারীসহ নিহত ২

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার...

ডেঙ্গুতে অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু, মৃত প্রসব হলো প্রথম সন্তান

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর...