অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দদূষণ ও হর্নের বিকট শব্দ থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপে নেমেছে গাজীপুর জেলা প্রশাসন। আগামী ১২ সপ্তাহের (তিন মাস) মধ্যে পুরো গাজীপুর নগরীকে সম্পূর্ণ হর্নমুক্ত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এই পরিচ্ছন্ন ও নীরব নগরী গড়ার পথপ্রদর্শক হিসেবে শুরুতেই সরকারি যানবাহনগুলোতে অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরকে শব্দদূষণমুক্ত একটি পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপান্তর করতে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
শুদ্ধি অভিযান শুরু সরকারি গাড়ি থেকেই
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সাধারণ পরিবহন চালকদের কড়াকড়ি করার আগে নিজেদের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও উদাহরণ তৈরিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে জেলা প্রশাসন। নতুন জারি করা নির্দেশনায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা ও দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত কোনো যানবাহনেই অনপ্রয়োজনীয় বা উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানো যাবে না। প্রশাসনের আশা, সরকারি চালকদের এই নিয়ম মানার দৃষ্টান্ত দেখে সাধারণ চালক ও নাগরিকরাও হর্ন ব্যবহারে সংযত হবেন।
১২ সপ্তাহের বিশেষ রোডম্যাপ
গাজীপুরকে হর্নমুক্ত করার এই বিশেষ কার্যক্রমে শুধু নিষেধাজ্ঞাই নয়, জোর দেওয়া হচ্ছে জনসচেতনতার ওপরও।
-
সচেতনতা ক্যাম্পেইন: শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, মোড় ও মহাসড়কে যানবাহনের চালকদের উদ্দেশ্য করে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
-
স্বাস্থ্যঝুঁকির বার্তা: অতিরিক্ত শব্দদূষণের ফলে মানসিক চাপ, উচ্চ রক্তচাপ ও শ্রবণশক্তি হ্রাসের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে চালক ও হেলপারদের সচেতন করা হচ্ছে।
-
কঠোর মনিটরিং: নির্ধারিত ১২ সপ্তাহের এই সময়সীমার মধ্যে পুরো গাজীপুর জুড়ে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ মনিটরিং টিম সক্রিয় থাকবে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে চালকদের সচেতন করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও নির্দিষ্ট সময় পর আইন অমান্যকারী এবং হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রশাসনের এই সময়োপযোগী ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশ কর্মীরা। তাদের মতে, নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা গেলে গাজীপুরের এই মডেল পুরো দেশের শহরগুলোর জন্যই এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
সোহাইল, চট্টলা২৪

