বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল হকের সাম্প্রতিক পদায়নকে কেন্দ্র করে বাহিনীর ভেতরে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অতীতে তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ, দীর্ঘদিন ক্লোজে রাখা এবং পরে চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড (সিজিপিওয়াই) চৌকির মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা।
আরএনবির একাধিক সূত্র জানায়, গত মে মাসে কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন এলাকায় বিএনপির ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ানো, বিনা টিকিটে যাত্রী পরিবহন এবং টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ ওঠে এসআই আমিনুল হকের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের পর তাকে প্রায় দুই মাস আরএনবি ট্রেনিং সেন্টারে ক্লোজ রাখা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে তার ক্লোজ আদেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং পুনরায় কক্সবাজারে পদায়ন দেওয়া হয়। এর মাত্র কয়েক দিনের মাথায়, ৩ আগস্ট তাকে চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড (সিজিপিওয়াই) চৌকির মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বাহিনীর ভেতরে অনেকে এ পদায়নকে ‘প্রাইজ পোস্টিং’ হিসেবে দেখছেন।
আরএনবির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সিজিপিওয়াই দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলপণ্য পরিবহনকেন্দ্র। এমন একটি স্পর্শকাতর স্থানে বিতর্কিত অভিযোগে অভিযুক্ত একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ায় বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, অভিযোগগুলোর প্রেক্ষাপট বিবেচনায় না এনে এ ধরনের পদায়ন বাহিনীর ভাবমূর্তির জন্যও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, এর আগে চট্টগ্রামের সিআরবি ইউনিটে কর্মরত থাকাকালেও এসআই আমিনুল হকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ইউনিটের সদস্যরা রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) বরাবর একটি যৌথ আবেদন (জয়েন্ট পিটিশন) জমা দিয়েছিলেন। পরে তাকে সেখান থেকে গোয়েন্দা শাখায় বদলি করা হয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা আরএনবির সহকারী কমান্ড্যান্ট সালামত উল্লাহ বলেন, “কক্সবাজারে ব্যানার ছেঁড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত করা হয়েছিল। তবে চাঁদাবাজির অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।”বিনা টিকিটে যাত্রী পরিবহন, টিকিট কালোবাজারি এবং সাম্প্রতিক পদায়ন নিয়ে এসআই আমিনুল হকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের একটি অংশের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ চৌকিতে পদায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অতীত কর্মদক্ষতা, শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ড ও অভিযোগের বিষয়গুলো আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। তাদের মতে, তা না হলে বাহিনীর অভ্যন্তরে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।
ফারুক, চট্টলা২৪

