চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত শ্রমিকদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং আহতদের চিকিৎসায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
আমির খসরু বলেন, সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবি) পক্ষ থেকে দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিহতদের পরিবার ও চিকিৎসাধীন আহত শ্রমিকদের সরকার প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেবে।
মন্ত্রী জানান, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটিতে এখনো বিষাক্ত গ্যাস লিকেজ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী কাজ করছে। ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর এক্সপ্লোসিভ স্পেশালিস্ট টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। গ্যাসের লিকেজ বন্ধ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, এ ধরনের গ্যাস বিস্ফোরণ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন। তবে সেনাবাহিনী দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে।
এর আগে শুক্রবার সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী স্টেশন রোডসংলগ্ন সাগর উপকূলে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও সহকর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। দুপুর ১২টার দিকে গুরুতর আহত পাঁচ শ্রমিককে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসাধীন ও হাসপাতালে আনা আরও তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়ায়।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণে শ্রমিকদের শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে। পাশাপাশি বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েও অনেকে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। আহত শ্রমিকদের কয়েকজন বর্তমানে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে এখনো গ্যাসের তীব্র গন্ধ ও লিকেজ থাকায় ঘটনাস্থলে সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
ফারুক, চট্টলা২৪

