রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রোববার দুপুরে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর তাদের ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারাগারেই এ নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়।
পুলিশ জানায়, রোববার দুপুর সোয়া ১টার দিকে ডিবির একটি দল রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যায়। এ সময় রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারী উপস্থিত ছিলেন। ডিবির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের কারাগারে পাঠায়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী জানান, আদালত ডোপ টেস্টের আবেদন মঞ্জুর করার পর আসামিদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের কারাগার থেকে বাইরে না এনে সেখানেই পরীক্ষা-সংক্রান্ত নমুনা নেওয়া হয়েছে।
গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) ও ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পরদিন মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত চলছে। এখন ডোপ টেস্টের প্রতিবেদনে তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, সেদিকেই নজর পুলিশের।
ফারুক, চট্টলা২৪

