শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

কাগজে সাড়ে ৫ কোটি টাকার পোশাক, ডিপোতে শূন্যতা: ভ্যালমন্ট ফ্যাশনসের ‘ভুতুড়ে’ রপ্তানি জালিয়াতি!

কাগজে-কলমে রপ্তানি হয়ে গেছে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার তৈরি পোশাক। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় সার্ভার ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড’-এ ইতোমধ্যে নিবন্ধিত হয়েছে পাঁচটি রপ্তানি চালান। বিল অব এক্সপোর্টে দেখানো হয়েছে প্রায় ১২১ টন (১ লাখ ২১ হাজার ১৭৫ কেজি) পণ্য। কিন্তু যে অফডক বা ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) থেকে এসব পণ্য বিদেশে পাড়ি জমানোর কথা, সেখানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল অন্য চিত্র-কনটেইনার কিংবা ডিপো চত্বরে তৈরি পোশাকের কোনো অস্তিত্বই নেই, চারদিকে কেবলই এক টুকরো শূন্যতা!

শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা বন্ডেড কাঁচামাল খোলাবাজারে গায়েব করে কাগজপত্রে ‘ভুতুড়ে’ রপ্তানি দেখানোর এই অদ্ভুত মায়াজাল বুনেছিল বিজিএমইএ নিবন্ধিত তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস লিমিটেড। তবে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সময়োচিত নজরদারিতে ভেস্তে গেছে জালিয়াতির পুরো ছক; আটকে গেছে ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকার ভুয়া রপ্তানির চক্রান্ত।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে রপ্তানি কনসাইনমেন্টের অনলাইন মনিটরিং ও রিস্ক ম্যানেজমেন্ট পর্যালোচনার সময় ভ্যালমন্ট ফ্যাশনসের পাঁচটি চালান নজর কাড়ে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান গন্তব্য ইউরোপ-আমেরিকা হলেও, আলোচিত চালানগুলোর গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিলিপাইন। অস্বাভাবিক গন্তব্যের পাশাপাশি গত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটির আমদানি করা কাঁচামাল ও রপ্তানি পণ্যের হিসাব বিশ্লেষণে বড় ধরনের অসংগতি ধরা পড়ে। কাঁচামাল আমদানির তুলনায় ঘোষিত রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ ছিল অস্বাভাবিক বেশি, যা স্বাভাবিক ইনপুট-আউটপুট কো-ইফিশিয়েন্টের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

দাখিলকৃত বিল অব এক্সপোর্ট অনুযায়ী, এসব পণ্য ‘ইসাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ নামের বেসরকারি আইসিডি ডিপো থেকে রপ্তানি হওয়ার কথা ছিল। কাস্টমস গোয়েন্দার কর্মকর্তারা সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট ডিপোতে গিয়ে পণ্য পরীক্ষণের নির্দেশ দিলে বিপত্তি বাঁধে। ডিপো কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কোনো পণ্যই দেখাতে সক্ষম হননি। অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে, রপ্তানির জন্য ঘোষিত পণ্যগুলো আদৌ ডিপোতে প্রবেশই করেনি।

তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া:
স্বাভাবিক নিয়মে রপ্তানি পণ্য প্রথমে কনটেইনার ডিপোতে প্রবেশ করে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। কিন্তু পণ্য ডিপোতে না গিয়েও কীভাবে সার্ভারে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স পেল- তা নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ও রাজস্ব অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব ও ইসাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন ইকবাল (রুহুল আমিন সিকদার) জানান, তিনি সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। তিনি বলেন, “এখন এমনও তো হতে পারে যে ওরা কার্গো ডিক্লেয়ার করেছে, কার্গো আসেনি, কন্টেইনার প্লেসড ছিল। এটা তো হয় যে কার্গো ওরা বিল অব এক্সপোর্টে ডিক্লেয়ার করে, তারপর কার্গো আসে। এখন কেন রপ্তানিকারক তার কার্গো পাঠায়নি, সেটা রপ্তানিকারক ভালো বলতে পারবেন।”

অন্যদিকে, বিষয়টিতে ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজুল হাসান বাঝমির বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই ভুতুড়ে রপ্তানি প্রক্রিয়ায় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কিংবা ডিপোর অভ্যন্তরীণ কারো যোগসাজশ ছিল কিনা তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে কাস্টমস আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফারুক, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...

চট্টগ্রামে বিয়ে শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নারীসহ নিহত ২

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার...