চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ শিপিং এজেন্টদের বড় জাহাজে পণ্য পরিবহনে উৎসাহিত করছে, যা আমদানি ও রপ্তানিকারকদের জন্য সময়, খরচ, এবং ঝুঁকি হ্রাস করেছে। এর ফলে বন্দর চ্যানেল, জেটি, বার্থ, ইক্যুইপমেন্ট এবং ইয়ার্ডের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় ও দেশের অর্থনীতির গতিশীলতা বাড়ছে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী ৯৮টি কনটেইনার জাহাজ চলাচলের অনুমতি রয়েছে। যেখানে আগে ১,৫০০-১,৮০০ টিইইউস ধারণক্ষমতার জাহাজ বেশি ছিল, এখন ২,০০০-২,২০০ টিইইউস ধারণক্ষমতার জাহাজ নিয়মিত ভিড়ছে। এদের মধ্যে আড়াই হাজার টিইইউস ধারণক্ষমতার জাহাজও আসছে।
২০২৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দর ৪,১০৩টি জাহাজের মাধ্যমে যে পরিমাণ কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং করেছে, ২০২৪ সালে তা কম জাহাজ ব্যবহার করেই অতিক্রম করেছে। বড় জাহাজের কারণে জাহাজের সংখ্যা ২৩৬টি কমে গেলেও কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে ৭.৪২% এবং কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়েছে ৩.১১%।
বন্দর কর্মকর্তারা জানান, বড় জাহাজ আনতে তুলনামূলক কম পাইলট, টাগবোট এবং জেটি প্রয়োজন হয়। এতে অপারেশনাল খরচ কমে যায়। একইসঙ্গে পণ্যের ভাড়া ও ডেমারেজ খরচও হ্রাস পায়।
রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ইতিমধ্যে বড় বড় জাহাজ কিনেছে, যা মহাদেশ থেকে মহাদেশে পণ্য পরিবহন করছে। এ উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে বড় জাহাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া, ভারী কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের জন্য নতুন জেটি নির্মাণ এবং অফডক ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত।
বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, “বন্দরের উন্নয়ন, সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে সব পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ। বড় জাহাজ ব্যবহারের ফলে কম জাহাজে বেশি পণ্য পরিবহনের সুফল পাওয়া যাচ্ছে।”
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে বন্দরের কনটেইনার খুলে সরাসরি ডেলিভারি না দিয়ে অফডকে নেওয়া হয়। এটি বাস্তবায়িত হলে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বছরে ১ মিলিয়ন টিইইউস বাড়বে এবং সরকারের আয় ২,০০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বড় জাহাজ ব্যবহারের এই উদ্যোগ দেশীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
ডেস্ক রিপোর্ট/ই ডি

