চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট আগুনে ১৮টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির দাবি করেছেন।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ সুখছড়ি খালেকীয়া দরবার শরীফ স্টেশন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করায় আগুন নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের উপর চড়াও হয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। কিন্তু এর আগেই মার্কেটের ১৮টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা রুবেল আলম জানান, “৯৯৯ নম্বর থেকে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে খবর পাই। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই, কিন্তু স্থানীয়দের বাধার কারণে আগুন নেভানোর কাজে দেরি হয়। প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তসাপেক্ষে নিশ্চিত করা হবে।”
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. মিনহাজ উদ্দীন, মো. তৈয়ব, তৌহিদুল আজিম, জাফর আহমদ, মো. আনোয়ার, মো. সেলিম, আবদুল আহাদ, রুহিদুল ইসলাম, সজল শীল, সুনীল দাশ, আবদুল হাফেজ, মাস্টার নুরুচ্ছফা, মো. রেজাউল করিম, আবু তাহের, ধন কান্তি দাশ ও মো. কুতুব উদ্দীন।
স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী নেতা মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “আমরা স্থানীয়ভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছি। আগুনে সব পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের পথে বসতে হবে। সরকারের কাছে তাদের সহযোগিতার আবেদন জানাই।”
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ ইনামুল হাছান। তিনি জানান, “ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবেদন পাওয়ার পর দ্রুত সহযোগিতার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সরকারি সহায়তার আশায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখন পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায়।
ডেস্ক রিপোর্ট/ই ডি

