কক্সবাজারের চকরিয়ায় ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে ছুরিকাঘাতে নিহত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ারের (২৩) হত্যাকাণ্ডে ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ।
গতকাল রোববার (১৯ জানুয়ারি) চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চকরিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরী অভিযোগপত্র জমা দেন।
২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৩টার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়ায় মাছ ব্যবসায়ী রেজাউল করিমের বাড়িতে ডাকাতি প্রতিরোধে যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ডাকাতদলের আক্রমণে গুরুতর আহত হয়ে মারা যান সেনা কর্মকর্তা তানজিম ছারোয়ার।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেজর উজ্জ্বল মিয়ার নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করলে ডাকাত দলের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় লেফটেন্যান্ট তানজিম তাদের থামতে বললে ডাকাতরা ফাঁকা গুলির পরও আক্রমণ করে। তিনি ধাওয়া দিয়ে মোর্শেদ আলম নামে এক ডাকাতকে ধরেন।
তখন নুরুল আমিন ও নাছির উদ্দিনসহ তিন ডাকাত ছুরি নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে তানজিম গুরুতর জখম হন। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার গলার ডান পাশে ছুরি চালানো হয়। এতে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরা থাকলেও রক্ষা পাননি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে ভোর সাড়ে ৫টায় চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা করেন।
চার মাসের তদন্ত শেষে ৬ জনকে মামলা থেকে বাদ দিয়ে ৭ জন নতুন করে যুক্ত করে ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তদন্তে প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, আসামিদের কললিস্ট পর্যালোচনা, গ্রেপ্তারকৃতদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি এবং গোপন তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
মামলার ১৮ আসামির মধ্যে ১২ জন জেলহাজতে রয়েছেন। বাকি ৬ জন পলাতক। আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং মালামাল ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে আদালত এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
ডেস্ক রিপোর্ট/ ই ডি

