কক্সবাজারের সাবেক জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ সাদিকুল ইসলাম তালুকদারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। এই পরোয়ানা, কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জারি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, আসামিরা বাদীর স্বাক্ষর ও নথি জাল করে নিজেদের নাম মুছে ফেলেছিলেন।
আসামিরা হলেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নাজির স্বপন কান্তি পাল এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের স্টেনোগ্রাফার জাফর আহমদ।
এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন ১ জুলাই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, হুলিয়া ও ক্রোক-পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। মামলার তদন্তে সাবেক জেলা প্রশাসক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে বাদীর স্বাক্ষর ও নথি জালিয়াতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০১৪ সালের ১৯ নভেম্বর, সাবেক জেলা প্রশাসক রুহুল আমিনকে প্রধান আসামি করে কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন মাতারবাড়ীর বাসিন্দা কায়সারুল ইসলাম চৌধুরী। পরবর্তীতে তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, মামলার নথিপত্র থেকে রুহুল আমিনের নাম মুছে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে কক্সবাজার আদালতে আবারও মামলা দায়ের করা হয় এবং সাবেক জেলা প্রশাসকসহ সাতজনকে আসামি করা হয়।
এই মামলায় চিংড়ি ঘের অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪৬ কোটি টাকার মধ্যে ১৯ কোটি ৮২ লাখ ৮ হাজার ৩১৫ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। তদন্তে জানা যায়, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন প্রাথমিকভাবে ২৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ চেক বিতরণ করলেও পরে তিনটি চেক বাতিল করা হয় এবং অবশিষ্ট টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
বর্তমানে মামলাটি চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন।
ডেস্ক রিপোর্ট/ই ডি

