ইসলামী ছাত্রশিবিরের মাসিক প্রকাশনা ছাত্র সংবাদ-এর একটি প্রবন্ধে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের কটাক্ষ করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটি বলছে, এ ধরনের বক্তব্য একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসরদের ধৃষ্টতা এবং নিজেদের পরাজয়ের গ্লানি ঢাকার অপকৌশল ছাড়া কিছু নয়।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানান। ছাত্রশিবিরের ছাত্র সংবাদ পত্রিকার ডিসেম্বর সংখ্যায় আহমেদ আফঘানি রচিত “যুগে যুগে স্বৈরাচার ও তাদের করুণ পরিণতি” শীর্ষক প্রবন্ধে লেখা হয়েছে, “অনেক মুসলিম না বুঝে মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল, এটা তাদের ব্যর্থতা ও অদূরদর্শিতা ছিল। আল্লাহ তায়ালা তাদের ক্ষমা করুন।”
ছাত্রদল বলেছে, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করাকে ভুল ও অদূরদর্শিতা হিসেবে প্রচার করা এবং একে পাপকাজ বলে ক্ষমা প্রার্থনা করা একটি ন্যাক্কারজনক ও গর্হিত কাজ। মুক্তিযুদ্ধ কোনো ধর্মযুদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল জালিম ও দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে আপামর জনসাধারণের প্রতিরোধ। সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ একসঙ্গে লড়াই করেছে বলেই এটি একটি প্রকৃত জনযুদ্ধ ছিল।
ছাত্রদলের ভাষ্যে, কেউ ভুল করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছে—এই বক্তব্য মূলত একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসরদের ধৃষ্টতা এবং নিজেদের পরাজয়ের গ্লানি ঢাকার অপকৌশল। ছাত্রশিবির একদিকে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে ‘স্বাধীনতা এনেছি, স্বাধীনতা রাখব’ স্লোগান দেয়, আবার অন্যদিকে নিজেদের দলীয় প্রকাশনায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকে ভুল ও অদূরদর্শিতা হিসেবে প্রচার করে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, যা সুস্পষ্ট দ্বিচারিতা।
ছাত্রদল মনে করে, এই দ্বিচারিতা প্রমাণ করে ছাত্রশিবির প্রকাশ্যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকার কৌশল নিলেও, ভেতরে ভেতরে তাদের পূর্বসূরি ছাত্রসংঘের মতো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী মনোভাব পোষণ করে। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের কটাক্ষ করার জন্য ছাত্রশিবিরকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ছাত্রদল বলেছে, মুক্তিযুদ্ধই আমাদের ভিত্তি ও অস্তিত্ব—এই সত্য মেনে নেওয়া এবং ধারণ করা ছাড়া বিকল্প নেই।
ডেস্ক রিপোর্ট/ই ডি

