চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেরে ছাত্রলীগের ১৮ নেতা-কর্মীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আরও তিনজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় বিশেষ জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বহিষ্কৃতরা সবাই চুয়েট ছাত্রলীগের পদধারী নেতা। তাদের মধ্যে রয়েছেন— তোফাইয়া রাব্বি, মো. ইমাম হোসেন, মো. সাদিকুজ্জামান, ইউসুফ আবদুল্লাহ, মো. তানভীর জনি, ইফতেখার সাজিদ, শাকিল ফরাজী, মোহাম্মদ তৌফিকুর রহমান, সৌমিক জয়, তালহা জুবায়ের, মাহমুদুল হাসান, মো. রিফাত হোসাইন, মইনুল হক, আজহারুল ইসলাম, ইরফানুল করিম, আশিকুল ইসলাম, তাহসিন ইশতিয়াক ও আবদুর রহমান।
এছাড়া, কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে চুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিজয় হোসেন, সহ-সভাপতি চিন্ময় কুমার দেবনাথ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিব উদ্দিন চৌধুরীকে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীরা অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাদের বহিষ্কার ও হলে মাদক গ্রহণের অভিযোগে এক শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহাফুজার রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। পাশাপাশি মাদক গ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধেও দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টার মধ্যে হল থেকে বহিষ্কৃত ১৮ শিক্ষার্থীসহ মোট ২১ জনকে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। এরপর তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মাহমুদ আবদুল মতিন ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিষয়ে তিনি জানান, গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সিন্ডিকেট গ্রহণযোগ্য মনে না করায় নতুন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ই ডি

