ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনির প্রথম স্বামী ফেরদৌস কবির সৌরভ (২৯)।
বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) রাজধানীর বসুন্ধরা রেসিডেন্সিয়াল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফেরদৌস কবীর সৌরভ কেশবপুর পৌরসভার সাবেক নারী কাউন্সিলর শাহানা কবির ফতেমার ছোট ছেলে। দুই বছর প্রেমের পর ২০১২ সালের ২৮ এপ্রিল শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনিকে বিয়ে করেন তিনি।
ওই সময় পরী ছিলেন দশম শ্রেণির ছাত্রী। সৌরভ ওই বছর এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করে ঢাকার বিজেএমসি ক্লাবে ফুটবল খেলার ডাক পান। তখন স্ত্রী স্মৃতিকে নিয়ে রাজধানীতে পাড়ি জমান। ঢাকার বনশ্রীতে বাসা ভাড়া নিয়ে স্ত্রীকে মিরপুরের একটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করেন।
সেখানে থাকার এক পর্যায়ে মিডিয়ায় জড়িত এক ব্যক্তির নজরে পড়েন স্মৃতি। তাদের মধ্যে পরিচয়ের একপর্যায়ে তার বিভিন্ন স্টাইলের ছবি তুলে পত্রিকায় ছেপে তাকে মডেল ও নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখান সেই ব্যক্তি। এরপর শামসুন্নাহার স্মৃতি নাম পাল্টে নানির ‘পরীবানু’ থেকে পরীর সঙ্গে মনি যোগ করে পরীমনি করেন তিনি।
সৌরভ গণমাধ্যমে এক বছর আগে জানিয়ছিলেন, পত্রিকায় ছবি ছাপার কিছুদিনের মধ্যে উশৃঙ্খল জীবনযাপন শুরু করেন পরীমনি। যে কারণে স্ত্রীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে সৌরভের। একদিন মিডিয়ার সঙ্গে জড়িত সেই ব্যক্তিকে পরীমনি বিয়ে করেছেন বলে জানতে পারেন সৌরভ। এরপর ঢাকা ছেড়ে কেশবপুরে ফিরে আসেন তিনি।
কেশবপুরে এসে ফুটবল ছেড়ে হাতে তুলে নেন গিটার। এক সময় তিনি পরিচিতি পান শিল্পী সৌরভ কবির হিসেবে। তার বন্ধুরা তাকে টেনে নেন আওয়ামী রাজনীতিতে। বর্তমান পৌরসভার ছাত্রলীগ নেতা হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে তার।
২০২১ সালের ৫ আগস্ট ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমনি র্যাবের হাতে আটক হওয়ার পর ফেরদৌস কবীর সৌরভ বলেছিলেন, উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন পরীমনির জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে এবং একদিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হবেন- এটা সব সময় মনে হত তার। তিনি দাবি করেন, পরীমনির একাধিক বিয়ে হলেও তাদের মধ্যে এখনো তালাক হয়নি।
চৌধুরী/চট্টলা২৪

