ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড থেকে বারইয়ারহাট পর্যন্ত ৪৩ কিলোমিটার সড়কপথ। এই সীমিত পরিসরেই গড়ে উঠেছে তিনটি পৌরসভা—সীতাকুণ্ড, মিরসরাই ও বারইয়ারহাট। কিন্তু কোনো পৌরসভারই নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশন নেই। ফলে ময়লা ফেলা হচ্ছে মহাসড়কের পাশেই, কখনো বা ইউ টার্নের ধারে, যেখানে নিয়মিত শত শত যানবাহন চলাচল করছে।
পাশাপাশি দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া ও দোহাজারী পৌরসভাও একইভাবে মহাসড়ক ঘেঁষে খোলা জায়গায় ময়লা ফেলে আসছে বছরের পর বছর। দুর্গন্ধ আর ধোঁয়ায় দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে স্থানীয় লোকজনের জীবন। শিশু, বৃদ্ধ ও শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষ পড়ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।
সীতাকুণ্ডের পন্থিছিলা এলাকা, যেটি স্থানীয়ভাবে উত্তর বাজার নামেও পরিচিত, সেখানেই ফেলা হয় পৌরসভার সব ময়লা।
মিরসরাই পৌরসভা ফেলে সুফিয়া সড়কের সংযোগস্থলে আর বারইয়ারহাটে ময়লা ফেলা হচ্ছে মহাসড়কের ইউ টার্ন মোড়ে। এসব জায়গায় শুধু ময়লা ফেলা নয়, দেওয়া হচ্ছে আগুনও। দুর্গন্ধের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে কালো ধোঁয়ার দূষণ।
সম্প্রতি বারইয়ারহাট এলাকায় ঘন ধোঁয়ার কারণে মহাসড়কে একাধিক দুর্ঘটনাও ঘটেছে।
শিশু, নারী যাত্রীরা বমি করছে বাসে বসেই। সীতাকুণ্ডে আট বছরের ইমাদুল ইসলামের এমন অভিজ্ঞতার কথাই বললেন তার মা পারভিন আক্তার, ধোঁয়া সহ্য না করতে পেরে বমি করতে শুরু করে তাঁর শিশুসন্তান।
পটিয়া ও দোহাজারীতেও একই অবস্থা। শ্রীমাই খালসংলগ্ন বাহুলী এলাকায় ময়লা ফেলা হচ্ছে নিয়মিত। দোহাজারী পৌরসভা ময়লা ফেলছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গায়, মহাসড়কের ঠিক ধারে।
স্থানীয় কৃষক উজ্জ্বল মিয়া বলেন, ‘ময়লার দুর্গন্ধে বাড়িতে থাকা যায় না, ক্ষেতেও কাজ করা যায় না। জীবনযাপন অমানবিক হয়ে উঠেছে।’ মিরসরাইয়ের বাসিন্দা ইকবাল হোসেন বললেন, ‘বায়ুদূষণের কারণে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’
পটিয়ার উপস্বাস্থ্য সহকারী লক্ষ্মী চৌধুরী বলেন, ‘খোলা জায়গায় ময়লা ফেলা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ভয়ংকর হুমকি। এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে পরিণতি হবে ভয়াবহ।’
পৌর প্রশাসকরা বলছেন, ডাম্পিংয়ের জন্য উপযুক্ত জায়গা না থাকাই মূল সমস্যা। তবে সীতাকুণ্ড, বারইয়ারহাট ও দোহাজারীর নির্বাহী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা খাসজমি শনাক্ত করে পরিবেশবান্ধব ডাম্পিং সিস্টেমের প্রস্তাব পাঠাবেন।
বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সরোজ কান্তি চৌধুরী বলেন, ‘ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে শুধু হাঁপানির রোগীরাই নয়, সুস্থ মানুষও শ্বাসতন্ত্রের নতুন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদে এটি মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সীতাকুণ্ডের কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ চট্টলা’২৪ কে বলেন, ‘ময়লার দুর্গন্ধে কৃষকরা চাষাবাদে নিরুৎসাহ হচ্ছেন। ফসলেরও ক্ষতি হচ্ছে। ডাম্পিং স্টেশন লোকালয়ের বাইরে সরিয়ে নেওয়া জরুরি।
ডেস্ক নিউজ/চট্টলা’২৪ হৃদয়