শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অপপ্রচার নিয়ে এবার মুখ খুললেন দক্ষিণ জেলা বিএনপি নেতা রাজিব

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটিতে ইউসিবি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও এফবিসিসিআই-এর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাফর চৌধুরীর ছেলে রাজিব জাফর চৌধুরীর অন্তভূক্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানামুখি অপপ্রচার শুরু হয়েছিল। বেসরকারি খাতের প্রথম প্রজন্মের ব্যাংক ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত আওয়ামী লীগ (পরে বিএনপিতে যোগ দেয়া) নেতা জাফর চৌধুরীর ছেলে রাজিব জাফর চৌধুরী অপপ্রচার নিয়ে নিজের অবস্থান পরিস্কার করেছেন।

শনিবার (১৭ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমার বিএনপিতে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে বিএনপি নেতা রাজিব জাফর বলেন, প্রয়াত আলহাজ্ব জাফর আহমেদ চৌধুরীর পুত্র হিসেবে আওয়ামী লীগের রোষানলের শিকার হয়েছিলাম। জাফর চৌধুরী ছিলেন ইউসিবি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (BAB)-এর সাবেক সভাপতি। একই সাথে তিনি এফবিসিসিআইর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন। বান্দরবান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জনতা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। আমি ও আমার প্রয়াত পিতার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে একটি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে চাই।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ২০০৭ সালের ৬ জানুয়ারি, আমার প্রয়াত পিতা আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন। সে সময় তিনি ইউসিবির চেয়ারম্যান ও পরিচালক ছিলেন। বিএনপিতে যোগদানের পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে ব্যাংকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি চট্টগ্রাম-১৩ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া) ও চট্টগ্রাম-১৪ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসন থেকে নির্বাচনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন লাভ করেছিলেন। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নিজে তাকে ট্রাক প্রতীক প্রদান করেন। যেহেতু দলীয় প্রতীক আগেই অ্যাডভোকেট আবু তাহেরকে ‘ডামি প্রার্থী’ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, তাই কৌশলগত সিদ্ধান্তে আমার পিতা ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করেন।

রাজিব বলেন, ২০১৩ সালে যখন বেগম খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দী করে তার বাসভবনের চারদিকে মাটি বোঝাই ট্রাক দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়, তখন আমি ও আমার পিতা টানা তিন মাস তার পাশে অবস্থান করি। গণমাধ্যম তার বাসায় প্রবেশ করতে না পারায় আমরা আমাদের ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সাংবাদিকদের প্রবেশের সুযোগ করে দিই। বেগম খালেদা জিয়া কেবল আমাদের রাজনৈতিক নেত্রীই নন, আমাদের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীও ছিলেন।

বিবৃতিতে রাজিব বলেন, ‘২০১৮ সালেও, একইভাবে যখন বেগম জিয়ার ও আমাদের বাসার চারপাশে ট্রাক দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়, আমি একাই তার পাশে দাঁড়াই। আমার পিতা মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বিএনপির প্রতি অবিচল ও নিষ্ঠাবান ছিলেন। তিনি ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি, বিএনপিতে যোগদানের ঠিক ৮ বছর পূর্ণ হওয়ার দিনেই ইহলোক ত্যাগ করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের জবাবে রাজিব জাফর চৌধুরী বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলছি— আমি কখনোই আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলাম না। আমার পিতাও বিএনপিতে যোগদানের পর আর কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা রাখেননি। ২০১৮ সালের ২১ নভেম্বর, আমি চট্টগ্রাম-১৫ আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করি। তখন কেউ আমার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলে নাই। তাহলে এখন— আমি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হওয়ায়, কেন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে? ‘

রাজিব জাফর চৌধুরী বলেন, ‘শৈশব থেকে আমি বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে দেখে এসেছি। আওয়ামী লীগের শাসনামলে আমরা কোনো সুবিধা পাইনি— বরং বহুবার নিপীড়নের শিকার হয়েছি। চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকায় আমাদের ফ্ল্যাটগুলো আওয়ামী লীগপন্থী একটি গোষ্ঠী জোরপূর্বক দখল করে নেয়। বিএনপির প্রতি আমাদের পারিবারিক আনুগত্যের জন্য আমরা মূল্য দিয়ে এসেছি। সম্প্রতি আমি লক্ষ্য করেছি যে, আমাকে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে জড়িয়ে ভুয়া ছবি ছড়ানো হচ্ছে। আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-এর যুগে যে কেউ জাল ছবি বা ভিডিও তৈরি করতে পারে। আমি এই ধরনের নোংরা, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমি সকলকে অনুরোধ করছি— এই ভিত্তিহীন গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না। আমার অবস্থান একদম স্পষ্ট: আমি বিএনপির একজন একনিষ্ঠ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী এবং আমি কখনোই আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত ছিলাম না।

এই বিবৃতির মাধ্যমে বিএনপি নেতা রাজিব জাফর চৌধুরী বলেন, আবারও আমার চিরন্তন, অবিচল ও বিশ্বস্ত আনুগত্য প্রকাশ করছি— বিএনপি ও এর নেতৃত্বের প্রতি, বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সালের ২৬ আগস্ট জাফর চৌধুরীর কাছ থেকে ইউসিবি ব্যাংক দখলে নিয়ে আলোচিত হন প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। পরের দিনের ইত্তেফাক– পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের শিরোনাম ছিল, ‘অস্ত্রের মুখে আখতারুজ্জামান বাবুর ইউসিবিএল-এ পরিচালনা পরিষদ দখল’। এরআগে ১৯৯৩ সালের ৮ এপ্রিল বেসরকারি খাতের প্রথম প্রজন্মের ব্যাংক ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) পরিচালক হুমায়ুন জহিরকে ধানমন্ডির নিজের বাসায় গুলি করে হত্যা করা হয়। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ছেলেসহ জাফর চৌধুরী পরবর্তীতে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। আর প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ছিলেন আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক। জাফর আহমেদ চৌধুরীর ছেলে রাজীব জাফর চৌধুরী উত্তর সাতকানিয়া জাফর আহমেদ চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ ও আসমা মফজল গার্লস হাই স্কুলের বর্তমান সভাপতি। তিনি বর্তমানে বেসরকারি ব্যাংক ইউসিবি ও জনতা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের স্পনসর পরিচালক।

চৌধুরী, চট্টলা২৪

 

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...

চট্টগ্রামে বিয়ে শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নারীসহ নিহত ২

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার...