গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনাসভায় বক্তারা এই আহবান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক কর্নেল (অব.) মো. জগলুল আহসান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি রাখাইনে মানবিক করিডর দেওয়া নিয়ে পাঁচটি সুবিধা এবং সাতটি অসুবিধার কথা তুলে ধরেন।
সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে—করিডর প্রদানের মধ্য দিয়ে এর পৃষ্ঠপোষক দেশ বা সংস্থার সঙ্গে জোরালো সম্পর্ক স্থাপন করে এই এলাকার অন্য দুই বড় শক্তির আধিপত্য মোকাবেলা করা যাব বেসামরিক নাগরিকদের সহায়তার কারণে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বাড়বে আরাকান আর্মির সঙ্গে যদি একটি ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তবে তা ভবিষ্যতে রোহিঙ্গাদের ফেরাতে সহায়ক হবে জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে রোহিঙ্গার নতুন ঢল আসা বন্ধ করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সম্পূর্ণ গোপনে এই কাজটা করার কথা বলা হলো।
তিনি বলেন, ‘হাসিনা যেমন ক্ষমতায় থাকার জন্য দেশের স্বার্থ, জনগণের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে অন্য সব কিছুর সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করে অন্য রাষ্ট্রের ইন্টারেস্ট সার্ভ করেছে, আপনি কি (ড. ইউনূস) সেদিকে যাচ্ছেন? এখানে কোনো চ্যানেল বা করিডর যাওয়ার কোনো সুযোগ নাই। বাংলাদেশ এটা ধারণ করতে পারবে না। যেটা করতে হবে, রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার দিয়ে রাখাইনে ফেরত নিতে হবে।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, করিডর যদি দেওয়া হয়, তাহলে এটা নিয়ন্ত্রণ করবে কে? আমি মনে করি, বাংলাদেশ এটা পারবে না। আমাদের কত বড় একটা নিরাপত্তার ব্যাঘাত হবে! সরকারের এ রকম গোপন এজেন্ডা সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক হতে হবে। এ রকম সিদ্ধান্ত আসতে হবে সংসদ থেকে। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জাতীয় নির্বাচন দেওয়া উচিত। অনেক পার্টি বলেছে ডিসেম্বরে নির্বাচন চায়। আমাকে যদি বলে, তাহলে বলব ডিসেম্বরে নির্বাচন হতে পারে।
গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, বাংলাদেশের চেয়েও মায়ানমারের সঙ্গে রাখাইনের যাদের ভালো সম্পর্ক, যেমন—চীন, তাদের দিয়ে জাতিসংঘ যদি মানবিক সহায়তা পাঠায়, সেটা সবচেয়ে ভালো হয়। ভারতের মিজোরাম রাজ্য আছে। তারা বড় রাষ্ট্র। এখানে কোনো সমস্যা হলে তারা সামাল দিতে পারবে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, এখানে জাতিসংঘ ও বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর একটা স্বার্থ আছে। কিন্তু আমাদের স্বার্থটা কী? আমাদের স্বার্থ হচ্ছে এই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো। আমরা আর একটা রোহিঙ্গাও গ্রহণ করতে চাই না।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, এই মানবিক করিডরের সঙ্গে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার সম্পর্ক রয়েছে। তাই এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে নির্বাচিত সরকার গ্রহণ করবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব হুমায়রা নূর বলেন, করিডর দেওয়ার বিষয়ে অনেক চিন্তা করা দরকার। তবে আমরা এটা সমর্থন করি না।
সাংবাদিক এম এ আজিজ বলেন, এখানে বিদেশি কোনো দেশের ইন্টারেস্ট আছে। এই করিডরের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
গোলটেবিল আলোচনাসভায় আরো বক্তব্য দেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) কামরুজ্জামান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন প্রমুখ।

