শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ছাত্র জনতার ওপর হামলার অভিযুক্ত বনপ্রহরী কুতুবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই!

ছাত্র-জনতার উপর সরাসরি হামলা ও হত্যার নির্দেশদাতা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের হেলমেট বাহিনী প্রধান কুতুব উদ্দিন এখনও বহাল তবিয়তে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তাছাড়া তিনি আগে বন বিভাগের নৌকা চালক থাকলেও পরবর্তীতে তিনি বনপ্রহরীর দায়িত্ব পান। কিন্তু তিনি নিজ দায়িত্ব পালন না করে হাছান মাহমুদের দায়িত্ব পালন করতে রাঙ্গুনিয়ায় অবস্থান করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বেড়াতেন। এমন একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এ। গত ২০ মে এ অভিযোগ দায়ের করেন আরিফ হোসেন নামে এক ব্যক্তি।

দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এর উপপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের কপি কমিশনে পাঠানো হবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযোগে বলা হয়, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহামুদের হেলমেট বাহিনী প্রধান বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের হত্যাকারী রাঙ্গুনিয়ার সন্ত্রাসী কুতুব উদ্দিন নৌকা চালক বর্তমানে বন প্রহরীকে ২০১৪ সালে হাছান মাহমুদ চাকরি দেয়। কিন্তু চাকরিতে যোগদান করে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করতে থাকে। চাকরিকালে সে রাঙ্গুনিয়া শিলক ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সহ-সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পালন করেন। একজন সরকারি চাকরিজীবী কীভাবে রাজনীতি করতে পারে বা পদে থাকতে পারে তা আমাদের বোধগম্য নয়। সে প্রায় সময় অফিসে না এসে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে এবং বর্তমানে ছাত্র বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সময় ১৫ দিনের মত অফিস করেনি এবং আমরা জানতে পারি সেই সময় রাঙ্গুনিয়া ছাত্র জনতার উপর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়েছে। কুতুব উদ্দিন ২০১৯ সালের দিকে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগদান করেন। সেখানে আরেক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে। তারপর থেকে অফিসে দুর্নীতির সম্রাজ্য তৈরি করে। এর মধ্যে আগ্রাবাদ ফরেস্ট কলোনিতে একটি বাসা বরাদ্দ নেয়। কিন্তু সে বাসায় নিজে না থেকে সরকারি আইন তোয়াক্কা না করে, সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়া দেয়। অথচ নিয়মানুযায়ী পুরোনা সরকারি কর্মচারী বাসা পায় না। কুতুব ক্ষমতা খাটিয়ে বাসা বরাদ্দ নিয়ে অন্য একজনকে ভাড়া দেয়। সে অবৈধভাবে প্রমোশন নিয়ে আরও ক্ষমতার অপব্যবহার করতে থাকে। সে রেঞ্জে বদলি হলেও তাকে বিভাগীয় দপ্তরে হুমায়ুন কবিরের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রেখে দেওয়া হয় এবং হুমায়ুন কবিরের যত অবৈধ কালেকশন বা ঘুষ তার মাধ্যমে নেওয়া হয়। মাঠ পর্যায়ে কোনো কর্মচারী ও জনগণ বিভাগীয় কার্যালয়ে কাজের জন্য গেলে কুতুব উদ্দিন এর সাথে কন্ট্রাক না করে কোন কাজ করতে পারে না। মিথ্যা কথা বলে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে, পেনশনকারীদের কাছ থেকে ঢাকার বিভিন্ন কাজের কথা বলে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তার কথা মতো টাকা না দিলে কাজে বিলম্ব করা হয় এবং গত ৩ বছর যাবৎ সে এলাকায় এসব পেনশন কাজের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মচারীদের হয়রানি করে যাচ্ছে এবং কর্মচারীরা এর প্রতিবাদ করলে এদের উপর বলডোজার চালিয়ে যাচ্ছে এবং কেউ প্রতিবাদ করলেই অদৃশ্য ক্ষমতা বলে বদলি করে দেয়।

শুধু তাই নয়, কথায় কথায় চাকরি খেয়ে ফেলার হুমকি দেয়। তার এই অল্প দিনের চাকরিকালে ৪০ লাখ টাকা খরচ রাঙ্গুনিয়া নিজ বাড়িতে বিল্ডিং করেছে। ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র করেছে। ১০ লাখ টাকা খরচ করে বিয়ে করেছে। আরও নামে বেনামে অনেক সম্পদ করেছে। জনগণের কাছে প্রশ্ন- যেখানে একজন বন কর্মচারী ২০-৩০ বছর চাকরি করে সংসার চালানো কষ্টসাধ্য এবং একটি টিনের ঘর করতে পারে না, সেখানে সে এতকিছু কীভাবে করেছে?

কুতুব প্রায় সময় ১১-১২টা বাজে অফিসে আসে এবং ২-৩টা বাজলেই চলে যায় যা অফিসের সিসি ক্যামেরা ও হাজিরা খাতা চেক করলে এর সত্যতা পাওয়া যাবে। প্রায় সময় সিসি ক্যামেরা নষ্ট করে রাখে ও হাজিরা খাতা লুকিয়ে রাখা হয়। সে এত পাওয়ার পায় কোথায়? যা আমাদের বোধগম্য নয়। তার ব্যাংক একাউন্ট ও বিকাশ নাম্বার চেক করলে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।

এছাড়াও তার সম্পর্কে তার গ্রামের বাড়িতে খোঁজ নিলে তার রাজনীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সকল তথ্য পাওয়া যাবে। উপকূলীয় বন বিভাগের ১২টা রেঞ্জের ফিল্ড কর্মচারীদের জিজ্ঞেস করলে তার অনেক সত্যতা পাওয়া যাবে। তাই আমরা কর্মচারীবৃন্দ সন্ত্রাসী কুতুব উদ্দিন হাসান মাহমুদের ক্যাডার বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি পেতে চাই। তার বিরুদ্ধে কথা বললে গুম খুনের ভয় দেখাতো। আমরা সকল কর্মচারীরা আশা করব এই দুর্নীতিবাজ, রক্তচোষা কর্মচারীকে শাস্তি দিয়ে বন বিভাগকে কলঙ্কমুক্ত করবেন।
বর্তমানে সরকারের বিরুদ্ধে বেতনবৃদ্ধি এবং বিভিন্ন বিষয়ে কর্মচারীদের নিয়ে আন্দোলনের জন্য পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে এবং নামে বেনামে ফেসবুক আইডি থেকে সরকারি বিরোধী অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগে মিহির কুমার মজুমদার, সামছুল আলম, শাহজাহান, আহসান উল্যা সারেং, মৃত সরোয়ার লস্কর (অব.) এর ছেলে মো. রাফির নাম উল্লেখ করা হয়।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুতুব উদ্দিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে এর আগেও একটি অভিযোগ করা হয়েছিল, এখনও করা হচ্ছে। এগুলো সব উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমি এসবের সাথে সম্পৃক্ত নই। অভিযোগে যা বলা হচ্ছে- তা সম্পূর্ণ বানোয়াট, মিথ্যা। আমি নিয়মিত ডিউটি করে যাচ্ছি।

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...

চট্টগ্রামে বিয়ে শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নারীসহ নিহত ২

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার...