চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মিটারে ব্যবহারকৃত ইউনিটের সঙ্গে বিলের কোনো মিল নেই বলে একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মিটারে ইউনিট কম থাকলেও বিল আসছে কয়েকগুণ বেশি। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ অনিয়মের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ করেও সমাধান পাচ্ছেন না গ্রাহকরা।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন অনেক ক্ষেত্রেই মিটার রিডিং না দেখেই বিল তৈরি করেন। মিটার দেখে ইউনিট লিখে নেওয়ার মতো পদ্ধতিগত স্বচ্ছতা নেই। বরং মাস শেষে আন্দাজে বিল তৈরি করে সেটিই পাঠিয়ে দেওয়া হয় গ্রাহকদের কাছে।
নিরপেক্ষ তদন্ত চান গ্রাহকরা
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলছেন, অবিলম্বে বিদ্যুৎ বিলের নিরীক্ষা, মিটার রিডিংয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
লোহাগাড়া সদরের বাসিন্দা মো. রিদওয়ান সোলতান বলেন, আমাদের মিটারে মে মাসে ৩৫ কিলোওয়াট ইউনিট ছিল, তার বিপরীতে বিল আসার কথা ছিল ১৯৪ টাকা। কিন্তু আমাদের হাতে বিল ধরিয়ে দেওয়া হয় প্রায় ১৯০০ টাকার, যেখানে লেখা ২৫০ ইউনিট। বাস্তবে এই ব্যবহারের কোনো অস্তিত্বই নেই।
মিটার দেখে না কেউ, বিল আসে নিয়মিত
লোহাগাড়ার আরও কয়েকজন গ্রাহক জানান, দীর্ঘদিন ধরে কেউ বাসায় এসে মিটার দেখেন না। তবুও প্রতি মাসেই বিল আসে এবং সেটা বাস্তবের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।
একজন গ্রাহক বলেন, যে দিন বিল আসে, সে দিন মিটার চেক করলে দেখা যায়, বিলের চেয়ে ৭০–৮০ ইউনিট কম ব্যবহার দেখাচ্ছে। অথচ অফিসে গিয়ে বললে পরে ‘সমন্বয়’ করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়।
একজন স্থানীয় সাংবাদিক বলেন, আমি নিজেই নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছি। শুরুতে দুই-তিন মাস ৩০-৪০ ইউনিট বিল আসতো। হঠাৎ করে তিন মাস ধরে তা দাঁড়িয়েছে ১২০–১৩০ ইউনিটে। অথচ বাসায় ব্যবহারে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ‘দায়সারা’ মনোভাব
অভিযোগ রয়েছে, লোহাগাড়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম খান এসব বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। বরং অভিযোগ জানাতে গেলে তিনি বলেন, সমন্বয় করে দেওয়া হবে কিংবা লিখিত অভিযোগ দিন। ভুক্তভোগীদের মতে, এই ধরনের আচরণ গ্রাহকদের ভোগান্তি আরও বাড়াচ্ছে।
শিক্ষক ও কবি মুহাম্মদ সোলাইমান বলেন, বিল তৈরি হয় ইচ্ছামতো পরে সংশোধন করে। এর মানে তারা জানে বিল ভুল। তাহলে শুরুতেই সঠিক বিল দিতে সমস্যা কোথায়?
দুর্নীতির অভিযোগ ও সুশীল সমাজের উদ্বেগ
লোহাগাড়ার সুশীল সমাজ মনে করছেন, এই অনিয়ম শুধু গাফিলতির ফল নয়—এতে দুর্নীতির একটি চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। কারণ, এমন পরিস্থিতি মাসের পর মাস চলতে পারে না কর্তৃপক্ষের ছত্রছায়া ছাড়া।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রে ‘আন্দাজনির্ভর’ ইউনিট তুলে দিয়ে লুটপাট চলছে। কেউ প্রতিবাদ করলে হয়রানি বাড়ে, আবার কেউ প্রতিবাদ না করলে নিয়মিত টাকা গচ্চা যায়।
কী বলছে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিজিএম রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আমরা অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিই। যারা সমস্যা ভোগ করছেন তারা লিখিত অভিযোগ দিলে সমাধান করা হবে।
চট্টলা২৪/হহ

