কাস্টমসের কর্মীরা কাজে ফেরায় দুইদিন পর পুরোদমে সচল হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর, স্বাভাবিক হয়েছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম।
রোববার রাত থেকে অপারেশনাল কার্যক্রমে গতি এলেও সোমবার সকাল থেকে চিরচেনা ছন্দে ফিরেছে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং এবং পণ্য খালাস কার্যক্রম। চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি ডিপো থেকে রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেইনার বন্দরে আসছে এবং বন্দর থেকে আমদানি পণ্যের কন্টেইনারগুলো ডিপোতে যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক চট্টলা২৪কে বলেন, এনবিআর কর্মীরা তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর বন্দরে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরেছে। জাহাজ থেকে কন্টেইনার ওঠা-নামা, পণ্য খালাস এবং রপ্তানিপণ্যবাহী কন্টেইনার বন্দরে আসা সবই পুরোদমে চলছে। দুই দিনের অচলবস্থায় ইয়ার্ডে জমে থাকা কন্টেইনার সরিয়ে দ্রুতই স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন‘কর্মসূচির কারণে গত দুইদিন চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সকল প্রকার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে। খালাস না হওয়ায় বন্দরের ইয়ার্ডে জমে থাকা কন্টেইনারের সংখ্যা বেড়ে যায়। একই পরিস্থিতি তৈরি হয় দেশের সব স্থলবন্দরে।
এ পরিস্থিতিতে রোববার নড়েচড়ে বসে সরকার। এনবিআরের সেবা ‘অত্যাবশ্যকীয়’ ঘোষণা করে আন্দোলনরতদের কাজে যোগ দিতে কঠোর হুঁশিয়ারি আসে। এরমধ্যেই আন্দোলনরত ছয় এনবিআর কর্মকর্তার ‘দুর্নীতির’ তথ্যানুসন্ধান শুরুর তথ্য দেয় দুদক। আগের সূচি অনুযায়ী রোববার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, তাতে বসতে চাননি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। কমপ্লিট শাটডাউন চালু রাখা অবস্থায় তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলতে অপারগতা জানান।
এরমধ্যে সংকটের সমাধানে পাঁচ উপদেষ্টাকে নিয়ে উপদেষ্টা কমিটি গঠন করার কথা জানায় সরকার।
কর্মসূচি প্রত্যাহার হওয়ায় সোমবার সকাল থেকেই সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে চট্টগ্রাম কাস্টমসের কার্যালয়। বিল এন্ট্রি দাখিল, পণ্যের শুল্কায়নসহ সকল কার্যক্রম শুরু হয়।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার সাইদুল ইসলাম চট্টলা২৪কে বলেন, রোববার রাত থেকেই চট্টগ্রাম কাস্টমসে কাজ শুরু হয়েছে। তবে সোমবার সকাল থেকে আমদানি-রপ্তানি বিষয়ক সকল কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে।
জমে থাকা কাজ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্বভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চট্টলা২৪/হহ

