আজ ৭ই আগস্ট চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিলো। অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) সাবেক বিতর্কিত উপাচার্য ড. নীতিশ চন্দ্র দেবনাথ। তবে তার অংশগ্রহণের খবরে অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে আমন্ত্রিত ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান সাইদ আল নোমান এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন এবং শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও ছিল অনেক কম।
জুলাই বিপ্লবে গোটা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিবর্তন এলেও সিভাসু যেন ব্যতিক্রম। এখনো ফ্যাসিবাদের দোসর প্রাক্তন ভিসি ড. নীতিশ চন্দ্র দেবনাথই যেন প্রশাসনের প্রাণভোমরা। উপাচার্য থাকাকালীন সময়েই চট্টগ্রামের এই ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাসিস্টদের জন্ম দেওয়া, লালন-পালন ও পরিচর্যা করেন তিনি।
২০২৩ সালে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে মামলা স্থগিতের বিরোধিতা করে যারা বিবৃতি দিয়েছিলেন, ড. নীতিশ চন্দ্র দেবনাথ ছিলেন তাদের একজন। এমনকি ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট তিনি গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছাত্র আন্দোলন দমন নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন।
সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠিত সিভাসু কখনোই ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠার রূপকার বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান হলেও উপাচার্য থাকাকালীন ড. নীতিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থী চিন্তাধারার প্রচার চালিয়েছেন। ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন ছিল তার মূল উদ্দেশ্য।
তবে এই বিশ্ববিদ্যালয় দিবস অনুষ্ঠান ঘিরে ড. নীতিশ চন্দ্র দেবনাথের অংশগ্রহণ নিয়ে আগে থেকেই চলছে নানা সমালোচনার ঝড়।
সিভাসুর এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই উপাচার্যের অংশগ্রহণ পুরো অনুষ্ঠানকে বিতর্কিত করতে পারে। বর্তমান উপাচার্য মোহাম্মদ লুৎফুর রহমানের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কারণেই তাকে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।”
ছাত্র সাফওয়ান আহমেদ বলেন, “ড. নীতিশ চন্দ্র দেবনাথ আপাদমস্তক ফ্যাসিস্ট। তিনি সিভাসু ক্যাম্পাসে ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছিলেন। এমন ব্যক্তি ক্যাম্পাসে আসলে তা কলঙ্কিত হবে। জুলাইয়ের চেতনার বিরুদ্ধে এমন চক্রান্ত আমরা মানব না।”
সূত্র অনুযায়ী, শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ময়মনসিংহের লোক হওয়ার সুবাদে ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমানকে সিভাসুর এনাটমি ও হিস্টোলজি বিভাগে নিয়োগ দেন ড. নীতিশ। তার প্রথম শ্রেণী ছিল না এবং তিনি ৮ নম্বর গ্রেস পেয়ে পাশ করেন, তবু অনৈতিকভাবে ৪৮তম অবস্থানে থেকেও শিক্ষক পদে নিয়োগ পান।
এছাড়া, ড. নীতিশের ভাব শিষ্য ড. আহসানুল হক রোকনকে নতুন ফ্যাকাল্টিতে অনৈতিকভাবে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের সেই কৃতজ্ঞতা থেকেই বর্তমান উপাচার্য লুৎফুর রহমান ড. নীতিশের প্রচার ও পৃষ্ঠপোষকতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে ড. নীতিশ চন্দ্র দেবনাথের উপস্থিতি সিভাসু ক্যাম্পাসে অস্থিরতা ও বিরোধিতার জন্ম দিয়েছে বলে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্রসমাজের একাংশ মনে করছেন।
জুনায়েদ/চট্টলা২৪

