আমজাদ রশিদ, ফেনী
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৫ আগস্ট পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর কোনঠাসা হয়ে পড়েছে দলটির নেতাকর্মীরা। নির্যাতন, অত্যাচার, হামলা ও মামলার কারণে বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়েছেন দলটির লাখ লাখ নেতাকর্মী। সারাদেশের মধ্যে অত্যাচারের মাত্রা বেশি চালানো হয়েছে ফেনী জেলায়। সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের কৃষক লীগ নেতা ফাইজুল ইসলামের (সৈকত) ঘরবাড়ি ও ব্যবসা-বাণিজ্য দখলে নিয়েছে বিএনপি-জামায়াত ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা। মিলেছে প্রাণনাশের হুমকিও। এই কারণে সরকার পতনের পর থেকেই এলাকাছাড়া এই নেতা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চরদরবেশ ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল ইসলামের (সৈকত) মালিকানাধীন সৈকত এগ্রোতে বিনিয়োগ করা হয় ত্রিশ লক্ষ টাকা। পশুখাদ্য, ঔষধ ও গবাদিপশু পালন করে প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রতিমাসে আয় হতো লাখ টাকা। তবে সরকার পতনের পর প্রথমে আগুন দেওয়া হয় প্রতিষ্ঠানটিতে। এরপর লুটপাট করা হয় খামারের ২০টি গরু। হামলা চালিয়ে আহত করা হয় এগ্রোর ম্যানেজার কেফায়াত উল্লাহ, এগ্রোর সহকারী মোহাম্মদ রমজান, রহিমসহ অন্তত ১০ জনকে। এদের মধ্যে রমজানের অবস্থা গুরুতর। বর্তমানে ভর্তি ফেনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মাথা, কোমড় ও পায়ে গুরুতর আঘাত নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা নড়ছেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফাইজুল ইসলামের (সৈকত) মা অভিযোগ করেন, তার ছেলে জীবনেও মানুষের ক্ষতি করেনি। সৈকতের মাধ্যমে এলাকায় শত শত মানুষের উপকার করেছেন। অথচ রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সে বাধ্য হয়ে এলাকা ছাড়তে হয়েছে। সন্ত্রাসীরা রাত দিন অস্ত্রসহ আমাদের বাড়িতে টহল দিচ্ছে। প্রশাসনের কাছে বারবার বলার পরেও তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
সৈকত এগ্রোর সহকারী মোহাম্মদ রমজানের স্ত্রী উম্মে হাবিবা বলেন, আমার স্বামীর কোন দোষ নেই। সে সৈকত এগ্রোতে সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিল। কিন্তু সন্ত্রাসীরা সৈকতকে না পেয়ে আমার স্বামীকে নির্মমভাবে মারধর করে। গত এক মাস ধরে হাসপাতালে আমার স্বামী মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
এ বিষয়ে জানতে ফাইজুল ইসলামের (সৈকত) মুঠো ফোনে বেশ কয়েকবার কল দিয়েও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি। এই কারণে তার বক্তব্য জানা যায়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার এক আত্মীয় বলেছেন, চতুরর্দিক থেকে আসা হুমকির মুখে জীবন বাঁচাতে সে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।
সৈকত এগ্রো দখল করা বিএনপি নেতা আব্বাস করিম ও জব্বরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, সৈকতের এগ্রোতে উত্তেজিত জনতা হামলা চালিয়েছে। তবে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের সিগনাল না থাকায় মামলা নেওয়া হয়নি। সৈকতের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ তাকে খুঁজছে। এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় তার সন্ধান মিলছে না। তবে তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
রহমান, চট্টলা২৪

