বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

এ সপ্তাহে শপথ নিচ্ছেন শাহাদাত

আদালতের রায় ঘোষণার সাত দিন পর বিএনপির নেতা শাহাদাত হোসেনকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। মেয়র হিসেবে শাহাদাত হোসেন কবে ও কীভাবে শপথ নেবেন, তা নিয়েই বর্তমানে আলোচনা চলছে। আলোচনা রয়েছে মেয়াদ নিয়েও। তবে তিনি দুর্গাপূজার ছুটি শেষেই শপথ নেবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।দলের হাইকমান্ডের সিগনাল পেয়ে চলতি সপ্তাহেই শপথ নিতে যাচ্ছেন বিএনপির নেতা ডাঃ শাহাদাত হোসেন ।

দলের দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর দলের প্রথম জনপ্রতিনিধি ডা. শাহাদাত হোসেন। এতে চট্টগ্রাম বিএনপি থেকে শুরু করে কেন্দ্রসহ সারা দেশের নেতাকর্মীরা মহাখুশি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে ঘোষণার পর মঙ্গলবার গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এখন শপথ গ্রহণের অপেক্ষা। আর উনাকে চসিকের মেয়র হিসেবে ঘোষণা করার মধ্যে দিয়েই দলের হয়ে তিনিই প্রথম একজন, যিনি প্রশাসনে যুক্ত হয়েছেন। এতে শুধু চট্টগ্রাম বিএনপি নয়, কেন্দ্র থেকে শুরু করে সারা দেশের বিএনপির নেতাকর্মীরা খুশি।
জানতে চাইলে ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেন , ’ চট্টগ্রামবাসীর জন্য অনেক কিছু করার স্বপ্ন ছিল। এটা যে বাস্তবে করতে পারার সুযোগ এসেছে, এই আনন্দটা বিশাল। নগরপিতা নয়, চট্টগ্রাম নগরবাসীর সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই ।  চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রন ,মশক নিধন কার্যক্রমকে আধুনিকায়ন করার উপর গুরুত্ব দিতে চাই। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে চট্টগ্রাম নগরীকে ক্লিন, গ্রিন ও হেলদি সিটি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে আমার। সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম নগরীর শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেব ।”

নগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, ‘শাহাদাত দুঃসময়ের কাণ্ডারী। ত্যাগী নেতা। চট্টগ্রামের মানুষের পাশে ছিলেন সবসময়। তার মাধ্যমে চট্টগ্রামের মানুষ আধুনিক নগর পাবেন। কারণ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে ছিলেন; তাদের পরিবারের সার্বক্ষণিক খোঁজ নেন তিনি। এখন শুধু শপথ গ্রহণের অপেক্ষায় আছি আমরা। তিনি দলের মতো করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকেও আগলে রাখবেন। উনার নতুন এ দায়িত্বে সবচেয়ে বেশি খুশি তৃণমূল নেতাকর্মীরা।’
সুত্রমতে , গেজেট প্রকাশের আগেই তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে স্কাইপিতে কথা বলেছেন । বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করে আদালতের রায় নিয়ে কথা বলেন । বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার সম্মতি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করেন ডাঃ শাহাদাত হোসেন । দলের হাই কমান্ডের সম্মতি নিয়েই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তিনি । 

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি সৌরভ প্রিয় পাল বলেন, ‘ শুধু বিএনপি নেতা হিসেবে নয় , নগরবাসীর অভিভাবক হিসেবে তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন। নেতাকর্মীদের জন্য তিনি তার জীবন উৎসর্গ করেছেন। কোনো সমস্যা হলেই নেতাকর্মীদের বাড়িতে ছুটে যেতেন। ডাঃ শাহাদাত   কর্মীপাগল একজন নেতা ।’
গত ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীকে অপসারণ করে ১৯ আগস্ট চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলামকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
গত ১ অক্টোবর ডা. শাহাদাত হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করে ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেন চট্টগ্রাম প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ খাইরুল আমীনের আদালত। পরে আটদিনের মাথায় মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সাবেক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর স্থলে শাহাদাতকে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট সংশোধনীর বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
দুর্গাপূজার  ছুটি শেষেই হবে বহুল প্রতীক্ষিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান।

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

চট্টগ্রামে বিয়ে শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নারীসহ নিহত ২

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার...

ডেঙ্গুতে অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু, মৃত প্রসব হলো প্রথম সন্তান

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর...