চট্টগ্রামের ছিন্নমূল বস্তির আলীনগরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। এছাড়া অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছে। যুবলীগের সন্ত্রাসী ভাগিনা জাবেদকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আলীনগরের এয়াসিন বাহিনী ও যুবলীগের ভাগিনা জাবেদের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয় শুক্রবার রাতে। ইয়াসিন গ্রুপের কালু (৩২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয় সংঘর্ষে। কালুর বাড়ি নগরের চান্দগাও এলাকা বলে জানা গেছে। সে পেশায় রাজমিস্ত্রী। তবে সে ছিন্নমূল বস্তিতে বসবাস করতো না বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
সংঘর্ষ বিস্তৃত হলে যুবলীগের সন্ত্রাসী ভাগিনা জাবেদকে অস্ত্রসহ আটক করে জনতা। ভাগিনা জাবেদ ছিন্নমূল বস্তিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় অস্ত্রসহ নিয়ে ডুকে সকালেও। এর আগে শুক্রবার রাতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ছিন্নমূল বস্তির বিভিন্ন প্রান্তে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, জঙ্গল ছলিমপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত। আহত হয়েছেন ১৬ জন। আহতদের চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সীতাকুণ্ডে জঙ্গল ছলিমপুর পাহাড়ি এলাকা দখলে নিতে ইয়াছিন গ্রুপের সঙ্গে রোকন-গফুর ও সরোয়ার বাবলার বাহিনীর সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটেছে। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে রোকন বাহিনীর একজন মারা যায়। এছাড়া উভয় গ্রুপের ১৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলাকে ভাড়া নিয়ে গেছে রোকন মেম্বার। এতে ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে ঘটনার পরে রোকন বাহিনীর অনেক সদস্য নিখোঁজ রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা- নিখোঁজ যে কয়েকজন রয়েছে তারা রোকন বাহিনীর সদস্য। আহত ভাগিনা জাবেদ শীর্ষ সন্ত্রাসী সরওয়ার বাবলার হয়ে কাজ করেন।
চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, দুটি গ্রুপে সংঘর্ষ হয়েছে। দুই পক্ষের সন্ত্রাসী অংশ নিয়েছে। ভাগিনা জাবেদ চিকিৎসাধীন আছে। হাসপাতালে পুলিশ তাকে নজরে রেখেছে।
সুত্রমতে, দীর্ঘদিন থেকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি জমি দখল করে ছিন্নমূল বস্তি গড়ে তুলে একটি চক্র। ছিন্নমূল সন্ত্রাসীদের আস্তানায় পরিণত হলে বেশ কয়েকবার পুলিশ ও র্যাব অভিযান চালায়।
জুনায়েদ/চট্টলা২৪

