বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মেঘনা ব্যাংকের সাড়ে চার কোটি শেয়ার অবরুদ্ধ করল সিআইডি

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার ভাই ইউসিবি ব্যাংক পিএলসির সাবেক পরিচালক আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনি এবং রনির স্ত্রী মেঘনা ব্যাংক পিএলসির সাবেক পরিচালক ইমরানা জামান চৌধুরীর নামে থাকা প্রায় সাড়ে চার কোটি শেয়ার অবরুদ্ধ করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকালে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান। তিনি জানান, অবৈধ অর্থ দিয়ে শেয়ার কেনার প্রমাণ মেলায় আদালতের নির্দেশে এই সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্তদের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যক্তিগত হিসাব এবং তাদের কাগুজে প্রতিষ্ঠান Steadfast Management Trading Limited–এর নামে মোট ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৩০ হাজার ২০০টি শেয়ার কেনা হয়, যার তৎকালীন বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৫৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। পরবর্তী সময়ে স্টক ডিভিডেন্ড যোগ হয়ে শেয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৫৫টিতে।

সিআইডি জানায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, জালিয়াতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ উপার্জন করেন। সেই অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার করার পর পুনরায় দেশে এনে বৈধ করার চেষ্টা করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তে আরও জানা যায়, ২০২২ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিঙ্গাপুর ও দুবাই থেকে মোট ২ কোটি ২২ লাখ ৫ হাজার ৪৪৪ মার্কিন ডলার দেশে পাঠানো হয়। অভিযুক্তদের সহযোগী আবুল কাসেম এসব টাকা ইউসিবি ব্যাংক ও এনআরবিআইসি ব্যাংকের এফসি হিসাবের মাধ্যমে দেশে আনেন। পরবর্তীতে ইমরানা জামান চৌধুরী এবং Steadfast Management Trading Limited–এর নামে ৬০ কোটি টাকা নগদ ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়।

এই অর্থ কমিউনিটি ব্যাংকের একটি বিশেষ অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখান থেকে ৫৯.৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মেঘনা ব্যাংকের শেয়ার ক্রয় করা হয়।

সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে আসে, Steadfast Management Trading Limited–এ উৎপল পালকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং নাসিম উদ্দিন মোহাম্মদ আদিলকে পরিচালক হিসেবে দেখানো হলেও তারা দু’জনই সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের কর্মচারী ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

গত ১৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব শেয়ার অবরুদ্ধের আদেশ দেন।

ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অধীনে সিআইডি জানিয়েছে, অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তকরণ এবং অবৈধ অর্থের উৎস নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।

ফারুক, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

১৫ সেপ্টেম্বরের পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে: প্রতিমন্ত্রী

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য...

এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবাই বাংলাদেশি’: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী...

সীমান্ত হত্যা ও পুশ ইন বন্ধে বিজিবিকে আরও কার্যকর হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সীমান্তে চোরাচালান, মাদকপাচার, পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে...