আমাদের সমাজে এমন অসংখ্য অসহায় ও নিঃস্ব মানুষ রয়েছেন, যাদের জন্য সাহরি ও ইফতারের সামান্য খাবার জোগাড় করাও কষ্টসাধ্য। বছরের অন্য সময় কোনোরকমে দিন পার করলেও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে রমজান মাসে তাদের দুর্ভোগ আরও প্রকট হয়ে ওঠে। অনেকেই সামাজিক লজ্জা ও আত্মসম্মানের কারণে সাহায্য চাইতেও পারেন না।
এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও দুস্থ রোজাদারদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। দেশব্যাপী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ ‘এক টাকায় রোজার বাজার’। পাশাপাশি প্রতিদিন হাজারো ছিন্নমূল মানুষের জন্য ইফতার ও সাহরি বিতরণের পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করছে সংগঠনটি।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় নগরীর বিপ্লব উদ্যানে এই ‘এক টাকায় রোজার বাজার’-এর উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মেয়র বলেন, “অসহায় মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া সামর্থ্যবান প্রতিটি মানুষের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। বিদ্যানন্দের এই ‘এক টাকায় রোজার বাজার’ দেখে আমার মনে হচ্ছে শায়েস্তা খাঁর আমলের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ আবার ফিরে এসেছে। এখানে অভাবী মানুষ মাত্র এক টাকা পরিশোধ করে হাজার টাকার বেশি মূল্যের পণ্য নিজ পছন্দ অনুযায়ী বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা পাচ্ছেন-এই ধারণাটি সত্যিই অভাবনীয় ও প্রশংসার দাবিদার। সমাজের বিত্তবানরা যদি বিদ্যানন্দকে অনুসরণ করে এগিয়ে আসেন, তবে এই রমজানে মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নিম্ন আয়ের মানুষজন উৎসবমুখর পরিবেশে নিজেদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করছেন। তাদের চোখেমুখে ছিল স্বস্তি ও আনন্দের ছাপ। কারণ এটি কোনো ভিক্ষা নয়-মাত্র এক টাকার বিনিময়ে তারা নিজেদের পছন্দমতো প্রায় হাজার টাকার বাজার করার সুযোগ পাচ্ছেন।
এই বাজারে রয়েছে চাল, ছোলা, ডাল, তেল, ডিমসহ মোট ১৬ ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য-একটি পরিপূর্ণ সুপারশপের মতোই আয়োজন। এখানে ১ কেজি চাল পাওয়া যাচ্ছে ১ টাকায়, ১ কেজি ছোলা ২ টাকায়, ১ ডজন ডিম ১.৫ টাকায়, ১ লিটার তেল ৩ টাকায় এবং একটি মুরগি ৪ টাকায়। তবে প্রত্যেক সুবিধাভোগী মাত্র ১ টাকার বিনিময়ে ১০টি টোকেন মানি পান, যা দিয়ে তারা বিভিন্ন কাউন্টারে গিয়ে পছন্দমতো পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন। পুরো প্রক্রিয়াটি সহজভাবে বুঝিয়ে দিতে সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করছেন।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বডির পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, “রমজানকে বলা হয় সহমর্মিতার মাস। রোজা পালনের মাধ্যমে একজন মানুষ ক্ষুধার্ত মানুষের কষ্ট অনুভব করতে শেখে। এই উপলব্ধি থেকেই দরিদ্র ও ব্যথিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো রোজাদারের দায়িত্ব। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন ও আমাদের স্বেচ্ছাসেবী দাতারা বছরের পর বছর ধরে সেই দায়িত্বই পালন করে যাচ্ছে। আজ এই বাজারের মাধ্যমে পাঁচ শতাধিক দরিদ্র পরিবার মাত্র এক টাকা দিয়ে কমপক্ষে এক হাজার টাকার নিত্যপণ্য নিতে পারবে, যা এই কঠিন সময়ে তাদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির কারণ হবে বলে আমরা আশা করি।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, মেয়রের একান্ত সচিব জিয়া উদ্দিন, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ফারুক, চট্টলা২৪

