শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) মুখোমুখি অবস্থানের জেরে আবারও অচল হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর। নৌ পরিবহন উপদেষ্টার দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ তুলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এর ফলে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন।
বন্দর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জেটি এলাকায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। কিছু শ্রমিক কাজে যোগ দিতে এলেও আন্দোলনরত নেতাকর্মীরা তাদের গেটে অবস্থান করতে দিচ্ছেন না। যাদের নির্দিষ্ট দায়িত্বে ভেতরে যেতে হচ্ছে, তাদের দ্রুত প্রবেশ করানো হচ্ছে। বন্দরজুড়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘নৌ পরিবহন উপদেষ্টার আশ্বাসে আমরা ৪৮ ঘণ্টার জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু বদলি প্রত্যাহার, মামলা বন্ধ এবং এনসিটি ইজারা নিয়ে সরকার কোনো সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত দেয়নি। বাধ্য হয়েই আবার কর্মসূচিতে ফিরতে হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। এটি শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলন।’
এদিকে বন্দরের অচলাবস্থা নিরসনে দুই শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারীকে নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সকাল সাড়ে ৯টায় বৈঠক শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা শুরু হয়নি বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্ভরযোগ্য সূত্র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সকাল ১০টার পর বৈঠক শুরু হয়। সভায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। চেয়ারম্যান স্যার সবার বক্তব্য শুনছেন।’
আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘বন্দর সচল রাখতে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে যারা মূল আন্দোলনকারী, তারা বৈঠকে বসতে রাজি হননি। এভাবে কার্যক্রম বন্ধ থাকলে রপ্তানি-আমদানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।’
অন্যদিকে সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বস্তরে আমাদের ধর্মঘট চলছে। বন্দর চেয়ারম্যান নিজেকে সফল দেখাতে আউটসোর্সিংয়ের লোকজন দিয়ে বৈঠক করছেন। আমরা শুনেছি, বন্দর চেয়ারম্যানকে বদলি করা হয়েছে। তা সত্যি হলে অনতিবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।’
উল্লেখ্য, এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়া বন্ধ, আন্দোলনে জড়িত শ্রমিকদের বদলি ও মামলা প্রত্যাহার এবং বন্দর চেয়ারম্যান অপসারণসহ চার দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় কর্মবিরতি চলছে। সর্বশেষ কর্মসূচিতে শ্রমিক নেতা ও বন্দর কর্তৃপক্ষের অবস্থান আরও কঠোর হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা নতুন করে গভীর হয়েছে।
ফারুক, চট্টলা২৪

