চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা বিষয়ে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন্দর ভবন চত্বরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি বলেন, এনসিটি নিয়ে এখনো কোনো চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। একটি চলমান প্রক্রিয়াকে ঘিরে আগাম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা বলেই মনে হচ্ছে। দেশের স্বার্থ, জনগণের স্বার্থ এবং বন্দরের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় রেখে যথাযথ ডিউ প্রসেস অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, গত দেড় বছরে চট্টগ্রাম বন্দর সব সূচকে আগের রেকর্ড অতিক্রম করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তবে বৈশ্বিক লজিস্টিক চেইনের সঙ্গে সংযুক্ত হতে হলে বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা জরুরি। পার্শ্ববর্তী দেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ভারতে বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশ বন্দর আন্তর্জাতিক অপারেটরদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যা তাদের বন্দর দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়িয়েছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশে ‘ল্যান্ডলর্ড পোর্ট মডেল’ অনুসরণ করা হচ্ছে, যা একটি স্বীকৃত বৈশ্বিক চর্চা। এ মডেলে বন্দরের মালিকানা সরকারের হাতে থাকলেও ব্যবস্থাপনা ও অপারেশন আন্তর্জাতিক মানের অপারেটরদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এনসিটির বিদ্যমান যন্ত্রপাতির প্রায় ৩০ শতাংশ অচল বা পুরনো হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপারেটর এলে দ্রুত আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন সম্ভব হবে, যা রপ্তানি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
এনসিটি বিষয়ে জি-টু-জি প্রক্রিয়ার ৩২টি ধাপ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আইনি জটিলতা নিষ্পত্তি ও সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই বিষয়টি সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে। জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ফারুক, চট্টলা২৪

