চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বাতিলের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের উপদেষ্টা ও বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় বলেছেন-বর্তমান সরকারের আমলে এনসিটি চুক্তি আর অগ্রগামী করা হবে না এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডও এ বিষয়ে সময় চেয়েছে। তবে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের দাবি, শুধু সময় নেওয়া নয়-ডিপি ওয়ার্ল্ড ও সরকারকে এই চুক্তি থেকে পুরোপুরি সরে আসতে হবে।
নেতারা বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখতে এবং পবিত্র রমজান ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বিবেচনায় নিয়ে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঘোষিত ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত করার বিষয়ে তারা ইতিবাচক চিন্তা করেছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক ‘শান্তিমূলক’ পদক্ষেপ তাদের সেই উদ্যোগকে ব্যর্থ করে দিয়েছে।
সংগ্রাম পরিষদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে পাঁচজন কর্মচারীকে গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে। পাশাপাশি বন্দর, ডবলমুরিং ও আকবরশাহ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শাস্তিমূলক বদলি, দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পত্র প্রেরণ, বরাদ্দকৃত বাসা বাতিলসহ নানা হয়রানিমূলক সিদ্ধান্ত। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৪ জন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা এসব পদক্ষেপকে ‘স্বৈরাচারী ও দমনমূলক’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে সকল হয়রানি বন্ধ ও নেওয়া সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান। তারা বলেন, কর্তৃপক্ষের এই মনোভাবই কর্মসূচি স্থগিতের প্রধান অন্তরায়।
নেতারা আরও জানান, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যত দ্রুত এ বিষয়ে স্পষ্ট ও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে, তত দ্রুত কর্মসূচি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে বিষয়টি দেশের গণমাধ্যমে যথাযথভাবে প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফারুক, চট্টলা২৪

