শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভোটের কালি মোছার আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ভোটের কালি নখ থেকে মোছার আগেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার পূরণে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী চালু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মের পুরোহিত, সেবায়েত, বিহার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদেরও সম্মানী প্রদান করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই আয়োজনে এমন সব মানুষ একত্রিত হয়েছেন যাদের সমাজে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সম্মান করে এবং জীবনের কঠিন সময়ে যাদের কাছে পরামর্শ প্রত্যাশা করে। এখানে ইসলাম ধর্মের ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিন যেমন রয়েছেন, তেমনি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মের ধর্মীয় নেতারাও উপস্থিত আছেন।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সমাজের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নারীদের জন্য ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এটি সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে। আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ থেকে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’ চালু হবে। পাশাপাশি আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু হলো। যাদের প্রয়োজন, পর্যায়ক্রমে তাদের সবাইকে এই সহায়তার আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব। নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি মানুষের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে পারে, কিন্তু ধৈর্য, সততা, কৃতজ্ঞতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ ছাড়া প্রকৃত মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে না। এসব মূল্যবোধ গড়ে তুলতে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

তিনি জানান, দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদ রয়েছে এবং এগুলোকে ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় দেশে ‘ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি’ চালু হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা’ কার্যক্রম চালু করেছিল। বর্তমান সরকারও ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদানের পাশাপাশি তাদের দক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে।

তিনি জানান, কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের চার হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির এবং ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারের মোট ১৬ হাজার ৯৯২ জন ধর্মীয় নেতা মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের ধর্মীয় নেতাদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

এছাড়া প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বৈঠকে একজন ইমাম, খতিব বা ধর্মীয় প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

ফারুক, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...

চট্টগ্রামে বিয়ে শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নারীসহ নিহত ২

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার...