চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেছেন, জুলাইয়ের বিপ্লবকে নস্যাৎ করতে পরাজিত শক্তি নানাভাবে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব নিয়েও অপতৎপরতা চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার বিকেলে প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ।
গিয়াস কাদের বলেন, বিএনপি জাতীয়তাবাদী দল হিসেবে জুলাইয়ের বিপ্লবের চেতনাকে সামনে আনতে চাইলেও পরাজিত একটি শক্তি তা নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে। তিনি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি বারবার রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।
সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন-এর প্রস্তাবনায় নয় দফা থেকে চার দফায় পরিবর্তন আনা হয়েছিল, যা দেশের রাজনৈতিক ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাঁর মতে, ভিত্তিগত পরিবর্তনের কারণেই সংবিধানের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
জুলাইয়ের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই আন্দোলনের ফলেই বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। আবেগঘন বক্তব্যে তিনি জানান, গত ১৭ বছরে তিনি গ্রামের বাড়িতে যেতে পারেননি, এমনকি দুই ভাইয়ের জানাজা ও দাফনেও উপস্থিত থাকতে পারেননি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন-এর সভাপতি মো. শাহনওয়াজ বলেন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব কোনো দল, গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেটের আখড়া নয়; এটি সাংবাদিকদের পেশাগত প্রতিষ্ঠান। তিনি জানান, শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অপতৎপরতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও কোনো বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।
সভাপতির বক্তব্যে জাহিদুল করিম কচি বলেন, অতীতে যেসব সাংবাদিককে প্রেস ক্লাবে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল, সেই সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, দীর্ঘদিন বঞ্চিত সাংবাদিকদের সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও প্রেস ক্লাব তার ঐতিহ্য বজায় রেখে এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ড. প্রফেসর মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনসহ প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।
ফারুক, চট্টলা২৪

