চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ চলতি বছরের মধ্যেই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর দাবি, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন শেষ হলে নগরের স্থায়ী জলাবদ্ধতার সমস্যা আর থাকবে না।
শনিবার বিকেলে নগরের শুলকবহর এলাকায় মির্জা খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন–এর মেয়র শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ–এর চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিম এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাও উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্তমানে চারটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এর মধ্যে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, একটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং আরেকটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা। গত আট বছরে এসব প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। সিডিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের অর্থায়নে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানিতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। পাশাপাশি আগের সরকারের রেখে যাওয়া আর্থিক দায়ও পরিশোধ করতে হচ্ছে। তবুও চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, অতীতে প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করা হবে।
মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন ও সিডিএ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করেছে, যার সুফল ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হবে। কোথাও খালের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা স্থাপনা সরানো হচ্ছে, কোথাও প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি খালের গভীরতা ও প্রশস্ততাও বাড়ানো হচ্ছে।
গত ২৮ এপ্রিল মৌসুমের প্রথম ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও বুকসমান পানি জমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে প্রবর্তক মোড় এলাকায় হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতান থাকায় ভোগান্তি ছিল বেশি।
বর্তমানে বর্ষা মৌসুমের কারণে কিছু অসমাপ্ত কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে বলে জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে বর্ষা শেষে পূর্ণোদ্যমে কাজ শেষ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, অতিবৃষ্টিতে সাময়িক জলজট তৈরি হলেও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা আর থাকবে না।
তিনি বলেন, নগরের ছোট-বড় প্রায় ১৩০টি খালকে প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। বৃষ্টির পানি প্রবাহ, সাগরে নিষ্কাশন, জোয়ার-ভাটা এবং স্লুইসগেট ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনায় কাজ করা হচ্ছে।
আগের তুলনায় এখন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বেড়েছে বলেও দাবি করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, পুরো কার্যক্রম তদারকিতে মেয়রের নেতৃত্বে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নগরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি। খালকে ময়লা ফেলার স্থান হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনসচেতনতা ছাড়া প্রকল্পগুলোর পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে অর্থমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টরা প্রবর্তক মোড়ের হিজড়া খালসহ নগরের আরও কয়েকটি খালের উন্নয়নকাজ ঘুরে দেখেন। এ সময় সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামসুল আলম এবং প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহসিনুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
সাব্বির/চট্টলা২৪

