শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিষেধাজ্ঞার মধ্যে গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা, শিক্ষার্থী-পুলিশ ধস্তাধস্তি

চট্টগ্রাম নগরের টাইগার পাস এলাকায় গ্রাফিতি আঁকাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা এবং ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। মিছিল-মিটিংয়ে নিষেধাজ্ঞা জারির মধ্যেই সোমবার দুপুরে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

সোমবার বেলা পৌনে ১টার দিকে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি আঁকার উদ্দেশ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী টাইগার পাস মোড়ে জড়ো হন। পরে বেলা ২টার দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় পুলিশ তিনজনকে আটক করে ভ্যানে তোলে। তবে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা আড়াইটার দিকে আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এরপরও এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

এর আগে রোববার রাতে গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার পর সোমবার সকাল থেকে জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত প্রধান সড়ক ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।

এদিকে সোমবার সকাল ১০টায় টাইগার পাস থেকে লালখান বাজারমুখী সড়কের পাশে দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। যদিও নির্ধারিত সময়ে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে দুপুরের দিকে অস্থায়ী নগর ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

এর কিছুক্ষণ পর থেকেই টাইগার পাস পুলিশ বক্সের সামনে শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে থাকেন। পুলিশ মাইকিং করে তাদের সরে যেতে বললেও তারা অবস্থান বজায় রাখেন। পরে শিক্ষার্থীরা পুলিশকে জানান, তারা দলবদ্ধভাবে নয়, তিনজন করে গিয়ে গ্রাফিতি আঁকবেন।

তবে বেলা ২টার দিকে রং-তুলি নিয়ে দেয়ালে আঁকতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় রঙের বালতি থেকে ছিটকে পড়া রঙ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও শিক্ষার্থীর গায়ে লাগে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করলে সেখানে থাকা শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানান। তাদের দাবি, পুলিশের নির্দেশনা মেনেই সীমিত সংখ্যায় গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবুও বিনা কারণে বাধা ও আটক করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, টাইগার পাস এলাকায় মেট্রোপলিটন অধ্যাদেশের ৩০ ধারা কার্যকর রয়েছে। তা অমান্য করে ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরিচয়ে সেখানে জড়ো হয়েছিল।

তিনি বলেন, “তাদের সরে যেতে বলা হলেও তারা যায়নি। সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের গায়ে রঙ ছোড়ে। এনসিপি আগেই জানিয়েছিল, তাদের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। পরে কয়েকজনকে হেফাজতে নেওয়া হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শান্তি-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ ১৯৭৮-এর ৩০ ধারা অনুযায়ী এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, টাইগার পাস এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কয়েকটি পিলারে থাকা জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতির ওপর সম্প্রতি সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নতুন করে রং করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার সন্ধ্যার পর বিক্ষোভে নামে এনসিপি।

পরে মেয়র শাহাদাত হোসেনকে ঘিরে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরাও সেখানে অবস্থান নেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে গভীর রাতে মেয়র শাহাদাত হোসেন লালখান বাজার এলাকায় গিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

সাব্বির/চট্টলা ২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...

চট্টগ্রামে বিয়ে শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নারীসহ নিহত ২

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার...