পার্বত্য চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও জলবায়ু সহনশীল জীবিকা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে পার্বত্য তিন জেলার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে চলমান ও প্রস্তাবিত কর্মসূচিগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সরকার।
রোববার বিকেলে সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান–এর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত আইএলও – এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টিউনন নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী বলেন, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে আইএলওর প্রস্তাবিত বিভিন্ন উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের সার্বিক উন্নয়নে সহায়ক হবে। তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী পার্বত্য এলাকায় দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।
দীপেন দেওয়ান আরও বলেন, পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ পুনর্গঠনের পর আইএলওর কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট পরিষদগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আরও গতিশীলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তিনি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের দক্ষতা উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন ও জীবিকার সুরক্ষায় ভবিষ্যতেও আইএলওকে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, আইএলওর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার এএনএম তানজেল আহসান এবং এলেক্সিয়াস চিকাম।
এ সময় আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টিউনন পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষের অধিকার রক্ষা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আইএলও কনভেনশন-১০৭, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কৌশলগত পরিকল্পনার আলোকে সংস্থাটি কাজ করছে।
আইএলও প্রতিনিধি দল জানায়, ভবিষ্যতে পার্বত্য অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল জীবিকা, পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়ন এবং নারীদের উদ্যোক্তা সহায়তার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়বিচার ও শোভন কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

