চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) রাজস্ব আদায় কার্যক্রম আরও গতিশীল করার নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। নগরের টেকসই উন্নয়ন ও সেবার মান বাড়াতে রাজস্ব আদায়ের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনার অংশ হিসেবে প্রতি মাসে সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার লালদিঘীস্থ চসিক পাবলিক লাইব্রেরি ভবনে রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় মেয়র বিভিন্ন সার্কেলের রাজস্ব আদায়ের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
সভায় মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী ও প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হলেও হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন খাতে রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এ অবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। প্রতি মাসে রাজস্ব আদায়ের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে এবং কোনো সার্কেলে সন্তোষজনক আদায় না হলে তার কারণ খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান মেয়র।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছেও চসিকের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বকেয়া রয়েছে। এসব অর্থ আদায় করা না গেলে সিটি করপোরেশনের আর্থিক সক্ষমতা শক্তিশালী করা কঠিন হবে। বকেয়া আদায়ের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্থায় ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, পাঁচ তারকা হোটেল, বিপণিবিতান, পোশাক কারখানা ও কনটেইনার ডিপোগুলোর কাছ থেকে যথাযথ হারে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মেয়র।
রাজস্ব আদায়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব খাটিয়ে কর ফাঁকির সুযোগ নেই। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে কর পরিশোধ এড়িয়ে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সাব্বির রহমান সানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিভিন্ন সার্কেলের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ের সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
কর্মকর্তারা জানান, কিছু এলাকায় কর আদায়কারী কর্মীর সংকট থাকায় নতুন স্থাপনা থেকে রাজস্ব আদায়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব স্থাপনা এখনও রাজস্ব মূল্যায়নের আওতায় আসেনি, সেগুলোর হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণে দ্রুত মূল্যায়ন কার্যক্রম চালানোর পরামর্শও উঠে আসে সভায়।

