কাতার থেকে শূন্য হাতে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরেছেন ১৬ প্রবাসী।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে অস্থিতিশীল শ্রমবাজার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরপাকড়ের শিকার হয়ে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে তাঁরা শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।
ব্র্যাকের চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্বরত কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান জানান, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত এই প্রবাসীদের বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা প্রদান করেছে সরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় তাঁদের তাৎক্ষণিক খাবার ও নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য যাতায়াত খরচ প্রদান করা হয়। গত কয়েক বছরে প্রায় পাঁচ হাজার বিদেশ ফেরতকে এভাবে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
ফেরত আসা প্রবাসীরা জানান, কাতারে নথিপত্রহীন প্রবাসীদের ধরতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে স্থানীয় পুলিশ। অনেক প্রবাসী বৈধ নথিপত্র বা আকামা তৈরির চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। আবার বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেকে ধরপাকড়ের শিকার হচ্ছেন।
ফেরত আসাদের একজন নূর উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, “আমার আকামার (বৈধ কাগজপত্র) মেয়াদ এখনো ১০ মাস আছে। কিন্তু কর্মস্থল থেকে আমাদের কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। ৯ দিন জেল খাটার পর আজ এক কাপড়ে শূন্য হাতে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে।”
একই বিমানে ফেরা শিল্পী বেগম অভিযোগ করে বলেন, চার বছর আগে গৃহকর্মীর কাজে কাতার গিয়েছিলেন তিনি। শুরু থেকেই মালিক ঠিকমতো বেতন দিতেন না। বর্তমানে কাজ না থাকায় এবং আকামার মেয়াদ বাড়াতে না পেরে মালিক নিজেই তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ফিরেছেন নাটোরের রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ করে বিদেশ গিয়েছিলাম। শুরুতে কাজ পেলেও পরে সংকট দেখা দেয়। মালিক নিয়মিত বেতন দিতেন না। এখন পাওনা টাকা না পেয়েই খালি হাতে ফিরেছি।”
ফেরত আসা প্রবাসীরা জানান, কাতারের কারাগারগুলোতে এখনো অনেক বাংলাদেশি আটকে আছেন, যাঁদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
২০১৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৪৪ হাজার ৩৫৪ জনের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশ-ফেরত অভিবাসীকে জরুরি সহায়তা দিয়েছে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এর মধ্যে শুধু চট্টগ্রামেই সহায়তা পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৯৩ জন প্রবাসী।

