তীব্র গরম ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে কাপ্তাই হ্রদ-এর পানির স্তর ক্রমাগত কমে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র-এর বিদ্যুৎ উৎপাদনে। পানির ঘাটতির কারণে কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি বন্ধ হয়ে গেছে এবং বর্তমানে মাত্র দুটি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিট থেকে মোট ৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৩০ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিট থেকে ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে এ সময় হ্রদের পানির স্তর ৭৮.৩৪ এমএসএল থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে তা কমে ৭৩.৯১ এমএসএলে নেমে এসেছে, ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, পানির স্তর আরও কমে গেলে বর্তমানে সচল থাকা বাকি দুটি ইউনিটও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, পর্যাপ্ত পানি থাকলে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট থেকে সর্বোচ্চ ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
অন্যদিকে, হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, বিলাইছড়ি এবং জুড়াছড়ি উপজেলার নৌ-যোগাযোগও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এসব এলাকার মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের দুর্ভোগ দেখা দিতে পারে।

